ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম প্যাকেজের ডিজাইন ও নির্মাণকাজের কার্যাদেশ পেয়েছে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের এই কাজের আওতায় বাংলাদেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেলের ট্র্যাক, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সিগন্যালিং ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) কার্যাদেশ পাওয়ার তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের রেলওয়ে সিস্টেম স্থাপন ও পরিচালন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব পালন করবে এলঅ্যান্ডটি।
প্রকল্পের আওতায় এলঅ্যান্ডটি তাদের জাপানি অংশীদার সুমিতোমো কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে পুরো করিডোরে ট্র্যাক নির্মাণ ও স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন, ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেম এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের কাজ করবে। এসব ব্যবস্থার নকশা প্রণয়ন, সরঞ্জাম সংগ্রহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও কমিশনিংও চুক্তির অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া রেললাইন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর (পিএসডি) স্থাপনের কাজও এই কার্যাদেশের আওতায় রয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এসব ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে চালু হলে মেট্রোরেলটির পরিচালন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এলঅ্যান্ডটির ট্রান্সপোর্টেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান রামকুমার এস বলেন, ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬ এবং জাকার্তা মেট্রোরেলের ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ইঅ্যান্ডএম) সিস্টেম বাস্তবায়নে তাঁদের সময়মতো কাজ সম্পন্ন করা এবং গুণমান বজায় রাখার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মূল সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক (ওইএম) ও অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একাধিক সিস্টেমকে কার্যকরভাবে একীভূত করার অভিজ্ঞতা নতুন প্রকল্পেও কাজে লাগবে বলে জানান তিনি।
ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১-এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১ কিলোমিটার। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে দুটি রুট রয়েছে। কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এয়ারপোর্ট রুট এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত পূর্বাচল রুট নিয়ে গঠিত হবে লাইনটি। পুরো প্রকল্পে থাকবে ১৯টি স্টেশন এবং পিতলগঞ্জে একটি ডিপো।
বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল করিডোর লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলওয়ে সিস্টেমের কাজও আগে সম্পন্ন করে হস্তান্তর করেছে এলঅ্যান্ডটি। ওই করিডোর বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রচলিত শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ৫ হাজার কোটি ভারতীয় রুপির বেশি মূল্যের চুক্তিগুলো বড় অর্ডারের অন্তর্ভুক্ত হয়। ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১-এর নতুন কার্যাদেশটিও সেই শ্রেণির বড় প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।