কক্সবাজারের টেকনাফে সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হককে ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুর রহমান বদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে মামলাটি নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। গত ২৬ জুলাই সেই অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২। পাশাপাশি তিনজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই আদেশে ২৫ আগস্ট শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে একরামুল হককে তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে তার মৃত্যুর সময় ও স্থানও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়।
এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে একরামুল নিহত হন।
একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ এবং বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যার অভিযোগ। পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা ও সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ ও আবদুর রহমান বদিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।