লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে জুয়েল হোসেন নিরব নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা শাহেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত জুয়েলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোন কেনাবেচা নিয়ে শাহেদ ও জুয়েলের মধ্যে প্রথমে বিরোধ দেখা দেয়। পরে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন জুয়েল। সেখানে শাহেদ তাঁর অনুসারীদের নিয়ে গিয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলা থেকে বাঁচতে জুয়েল জরুরি বিভাগের কক্ষে আশ্রয় নিলেও সেখানেও তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি জুয়েলকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি কিল-ঘুষি ও লাথি মারছেন।
আহত জুয়েল লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি। অন্যদিকে অভিযুক্ত শাহেদ দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে এ ধরনের হামলার ঘটনায় চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অরুপ পাল বলেন, ‘হাসপাতালে হামলার বিষয়টি দুঃখজনক। হামলার চিত্র সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরাও আতঙ্কে আছি।’
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ ও সদস্যসচিব হাসিবুর রহমান অভি জানিয়েছেন, শাহেদ আগে দালাল বাজার কলেজ ছাত্রদলের ক্লাস কমিটির নেতা ছিলেন। বর্তমানে তাঁর কোনো পদ-পদবি নেই। তবে তিনি পৌর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তাঁরা।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।