ইতালি পাঠানোর কথা বলে এক প্রবাসীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়া এবং পরে তাঁকে লিবিয়ায় অন্য একটি পাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে নোয়াখালীর চাটখিলের এক মামলার প্রধান আসামি মোঃ আজাদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১১)। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার দোলাইরপাড় মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আজাদ নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার শংকরপুর গ্রামের কবিরাজ বাড়ির সামছুল হকের ছেলে। তিনি খিলপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি।
এসআরবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসআরবি-১১-এর সিপিসি-৩, নোয়াখালীর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মানব পাচার মামলার এক নম্বর আসামি আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার ও প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, ভুক্তভোগী একজন ইতালি প্রবাসী। ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ২০২৩ সালে তিনি বিভিন্ন সময়ে আসামিদের মোট ১০ লাখ টাকা দেন। ওই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে আজাদসহ মানব পাচার চক্রের সদস্যরা তাঁকে জিম্মি করে অন্য একটি পাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেন।
লিবিয়ায় ওই চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে পরিবারের সহায়তায় বাংলাদেশ থেকে ঋণ নিয়ে এবং স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করে তিনি মুক্তি পান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশে ছুটিতে ফেরার পরও ভুক্তভোগীকে রেহাই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে নতুন করে আরও বেশি টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁকে মারধর করে এবং গুরুতর জখম করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে বারবার হুমকিও দেওয়া হয়। এসব ঘটনার পর চলতি বছর চাটখিল থানায় মামলা করেন ওই প্রবাসী।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ভুক্তভোগী প্রবাসীর এজাহারের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছিল। মানব পাচারের পাশাপাশি দেশে ফেরার পর মারধর এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসআরবি-১১-এর সহযোগিতায় আজাদকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তারের পর যাত্রাবাড়ী থানার মাধ্যমে চাটখিল থানায় হস্তান্তর করা হয়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে তাঁকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।