বিএনপি ক্ষমতায় আসার আট মাস পার হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে সালাম দেওয়ার সুযোগ পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ইব্রাহিম খলিল ফিরোজ। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তারেক রহমানকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা এবং বিএনপিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার পেছনে কারা রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব প্রশ্ন তোলেন ফিরোজ। তিনি ছাত্রদলের সাংগঠনিক টিম প্রধান হিসেবে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার দায়িত্ব পালন করছেন।
পোস্টে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নিজেদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এই ছাত্রনেতা। তিনি লেখেন, “দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ফ্যাসিবাদের পতন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে, জীবনের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি। পার্টির পক্ষ থেকে যেখানে যেই দায়িত্ব প্রদান করেছিল, শত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও চেষ্টা করেছি পালন করার।”
গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ফিরোজ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছাত্রদলের সাংগঠনিক টিম প্রধান হিসেবে তাকে এই তিন জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জ, গোয়েন্দা সংস্থার নিষেধাজ্ঞা এবং ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাধা সত্ত্বেও দীর্ঘ ২২ বছর পর জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় কর্মসূচি পালন করেছিলেন তিনি।
তিন জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার কথাও পোস্টে উল্লেখ করেন ফিরোজ। তিনি দাবি করেন, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ধানের শীষ প্রতীক প্রথমবারের মতো পরিচিত করে তোলেন তারা।
ছাত্রদলের এই নেতা জানান, সাংগঠনিক টিমের প্রধান হিসেবে কয়েকবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে স্কাইপিতে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল তার। সে সময় তারেক রহমানের আন্তরিকতা তাদের মুগ্ধ করেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফিরোজ লেখেন, “তিনি প্রায় বলতেন, ফিরোজ, আগামীর বাংলাদেশ তোমাদেরকে নিয়েই গড়ব। আমরা আমাদের জীবনের স্বর্ণালি সময়গুলো অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছি শুধু মাত্র কিছু স্বপ্ন নিয়ে। এর মধ্যে একটি অন্যতম প্রধান স্বপ্ন ছিল দেশ যদি কখনো স্বাধীন হয় তাহলে স্বাধীন বাংলাদেশ দেশনায়ক তারেক রহমানের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করা।”
তবে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ না পাওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পোস্টে ফিরোজ লেখেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসার ৮ মাস পরেও কেন আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একটা সালাম দেওয়ার সুযোগ পাই নাই? আমাদের কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একটা সালাম দেওয়ার যোগ্যতাও নাই? কারা আমাদেরকে জনাব তারেক রহমান থেকে দূরে রেখেছে? কারা তাদের নিজেদের পছন্দের লোকদেরকে পার্সোনালি সাক্ষাৎ করিয়ে দিচ্ছে? কারা জনাব তারেক রহমানকে নেতাকর্মীদের থেকে আইসোলেটেড করে রেখেছে? কারা দল হিসেবে বিএনপিকে নিষ্ক্রিয় করে দিচ্ছে?”
পোস্টের শেষাংশে সংশ্লিষ্টদের কর্মকাণ্ডের পরিণতি নিয়ে সতর্কবার্তা দেন ছাত্রদলের এই নেতা। তিনি লেখেন, “তাদের এই কৃতকর্মের মূল্য পুরো জাতিকে দিতে হবে এবং চরম ভাবেই দিতে হবে। নাথিং গোজ আনপেইড। বিএনপি পথ হারালে, পথ হারাবে বাংলাদেশ।”