গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্ধশতাধিক যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলায় ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে কালিয়াকৈর ও গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন শিল্প এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ এবং স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সকাল ৭টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় শ্রমিকেরা আন্দোলন শুরু করেন। পরে কোনাবাড়ী, ভোগড়া বাইপাস ও বোর্ডবাজারসহ আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ অবরোধ করেন শ্রমিকেরা।
অবরোধের কারণে দুই মহাসড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আটকা পড়েন দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মহাসড়কসংলগ্ন শিল্পকারখানাগুলোতেও ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
আন্দোলন চলাকালে কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় কয়েকটি কারখানার ফটক ভাঙচুর করা হয়। মৌচাক এলাকায় একটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর এবং কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে আরেকটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া আনসার একাডেমির সামনে একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিডিয়া ও রিসার্চ সেলের সহকারী কমিশনার আরিফ হোসাঈন সোমবার সকাল ৮টা ২৬ মিনিটে পাঠানো এক বার্তায় বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের তথ্য নিশ্চিত করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ, বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় অবস্থান নেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মৌচাক এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাঁরা কাজ করছেন।
পরবর্তী সময়ে রতনপুর, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর ও ভোগড়া বাইপাসসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের মুখে এসব এলাকার কারখানাগুলোতেও ছুটি ঘোষণা করা হয়।