বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন ঘিরে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে চার দফা দাবি জানিয়েছেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে ইজতেমার তারিখ দ্রুত ঘোষণা, অপপ্রচার ও উসকানি বন্ধ, বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ইজতেমা ঘিরে একপক্ষীয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। ‘তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও সুশীল সমাজ’ ব্যানারে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষক মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে গত ছয়-সাত বছর ধরে বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, বিতর্ক ও উসকানির ঘটনা বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ইজতেমার ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের ক্ষেত্রে বাধার অভিযোগ তুলে মারকাযুস সুফফাহ আল ইসলামিয়া বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মুফতি শফিউল্লাহ মাক্কী বলেন, সাদপন্থিরা ইজতেমার আয়োজন করতে চাইলে জুবায়েরপন্থিরা বাধা দেন। এবারও তাঁদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিরোধে তৃতীয় একটি পক্ষ যুক্ত হয়ে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছে।
ওই তৃতীয় পক্ষের পরিচয় জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সাবেক কর্মকর্তা রেজাউল করিম হেফাজতে ইসলামের একটি অংশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রতিক কিছু সংবাদ সম্মেলন ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। অন্য সময়ে তাঁদের তেমন সক্রিয় দেখা না গেলেও ইজতেমার সময় তাঁরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে ইজতেমার তারিখ ঘোষণার পাশাপাশি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বক্তারা মনে করেন, পারস্পরিক বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত থাকলে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, তাবলিগ জামাতের বিরোধ নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা জরুরি। ইজতেমার আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধের পরিবর্তে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সমাধানে পৌঁছানো প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাভারের মারকাজুল উলুম আশ শারইয়্যাহর জ্যেষ্ঠ মুহাদ্দিস মাওলানা গোলাম মুস্তাফা, রাজধানীর ভাটারার মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল আহাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মঞ্জুরুল হক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শফিউল বারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশফাক এবং ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খালেদসহ অন্যরা।