ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শেয়ার বিক্রি নিয়ে মালিকানা প্রতিষ্ঠান ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপের (এফএসজি) সঙ্গে একটি বিনিয়োগকারী জোটের আলোচনা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে, প্রায় তিন মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী অমিত ভাটিয়ার নেতৃত্বে গঠিত এই জোটে রয়েছেন আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো সাভেরিন। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ‘দ্য টাইমস’কে জানিয়েছে, ‘আলোচনা চলছে, তবে বিষয়টি ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।’
স্কাই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। প্রস্তাবিত চুক্তিতে লিভারপুলের মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি পাউন্ড। চুক্তি সম্পন্ন হলে অ্যানফিল্ডের ক্লাবটির মালিকানায় বিশ্বের শীর্ষ ধনী কয়েকজন ব্যবসায়ী যুক্ত হবেন।
তবে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ এলেও খেলোয়াড় কেনার ক্ষেত্রে লিভারপুলের ওপর বিদ্যমান আর্থিক বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। প্রিমিয়ার লিগের ‘স্কোয়াড কস্ট রেশিও’ অনুযায়ী, ক্লাবের ব্যয় ফুটবল-সংক্রান্ত আয় এবং খেলোয়াড় বিক্রি থেকে পাওয়া নিট ফলাফলের ৮৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে হয়।
নতুন বিনিয়োগের সম্ভাব্য সুবিধা অবশ্য অন্য জায়গায় দেখা যেতে পারে। এর ফলে ক্লাবের বাণিজ্যিক আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নেও বিনিয়োগ বাড়তে পারে।
সম্ভাব্য নতুন অংশীদারদের মধ্যে অমিত ভাটিয়ার ইংলিশ ফুটবলে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। গত মাসে তিনি ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের বোর্ড থেকে সরে দাঁড়ান এবং নিজের শেয়ার রুবেন জ্ঞানালিঙ্গমের কাছে হস্তান্তর করেন। প্রায় ১৮ বছর ক্লাবটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
জোটের অন্য দুই সদস্যের আর্থিক সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্য। ‘ফোর্বস’-এর হিসাবে, জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ ২৮০০০ কোটি ডলারের বেশি। এদুয়ার্দো সাভেরিনের সম্পদ ৩২০০ কোটি ডলারের বেশি। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর চেলসি কেনার ব্যর্থ প্রচেষ্টাতেও সাভেরিন একটি বিনিয়োগকারী জোটের অংশ ছিলেন।
এফএসজি ২০১০ সালের অক্টোবরে টম হিকস ও জর্জ জিলেটের কাছ থেকে ৩০ কোটি পাউন্ডে লিভারপুল কিনেছিল। তাদের মালিকানায় ক্লাবটি দুটি প্রিমিয়ার লিগ এবং একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতেছে। এ সময় অ্যানফিল্ডের সংস্কার এবং কার্কবিতে নতুন অনুশীলন কেন্দ্রও তৈরি করা হয়।
প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শেয়ার বিক্রির উদ্যোগকে ঘিরে এফএসজি ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে লিভারপুলের মালিকানা থেকে সরে যাবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। তবে ‘দ্য টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বল্পমেয়াদে এ ধরনের বিনিয়োগ ক্লাবটির ব্যবসায়িক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে পারে।
এর আগে ২০২৩ সালে ডাইনেস্টি ইকুইটির কাছে এফএসজি লিভারপুলের একটি ছোট অংশের শেয়ার ৮ থেকে ১৬ কোটি পাউন্ডের মধ্যে বিক্রি করেছিল। ওই সময় এফএসজির সভাপতি ও লিভারপুলের দৈনন্দিন পরিচালনার প্রধান মাইক গর্ডন বলেছিলেন, ‘লিভারপুলের প্রতি আমাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি আগের মতোই অটুট।’
সম্ভাব্য নতুন চুক্তি নিয়ে এফএসজির মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে ‘দ্য টাইমস’।