লেস্টার সিটির সঙ্গে হামজা চৌধুরীর চুক্তি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত থাকলেও বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিয়মিত একাদশে সুযোগ কমে যাওয়ার মধ্যে ২৮ বছর বয়সী হামজাকে দলে নিতে তৎপর হয়েছে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ডার্বি কাউন্টি। পাশাপাশি বার্মিংহাম সিটি ও শেফিল্ড ইউনাইটেডেরও তার প্রতি আগ্রহ রয়েছে।
ডার্বি কাউন্টির আগ্রহের তথ্য জানিয়েছেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর দলবদলবিষয়ক প্রতিবেদক মাইক ম্যাকগ্রা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি সামনে আনেন।
ডার্বি মূলত নিজেদের মাঝমাঠের শক্তি বাড়াতে হামজাকে দলে নিতে চাইছে। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারের পাশাপাশি রাইট-ব্যাক হিসেবেও খেলার সামর্থ্য রয়েছে তার। এই বহুমুখিতাকে ডার্বির আগ্রহের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সম্ভাব্য দলবদলটি কোন প্রক্রিয়ায় হতে পারে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। দুই ক্লাবের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কি না বা কোনো চুক্তি হয়েছে কি না, সে তথ্যও জানা যায়নি। হামজাকে স্থায়ীভাবে কিনে নেওয়া হবে, নাকি ধারের চুক্তিতে নেওয়া হবে—সেটিও অনিশ্চিত।
হামজার বর্তমান পরিস্থিতিতে দলবদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি লেস্টার কোচ রাসেল মার্টিন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হামজা ও ক্লাব—উভয় পক্ষের জন্য ভালো কোনো সুযোগ এলে এবং চুক্তির শর্ত ঠিক থাকলে দলবদল হতে পারে।
দলবদলের গুঞ্জনের মধ্যে খেলোয়াড়ের মানসিক মনোযোগের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়েছে লেস্টার। এ কারণে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর স্কোয়াডে হামজাকে রাখা হয়নি।
লেস্টারের মূল একাদশে হামজার সুযোগও সীমিত হয়ে এসেছে। গত মৌসুমে লিগে মাত্র ১৭ ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত মাঠে নামলেও তা বদলি খেলোয়াড় হিসেবে।
বর্তমান চুক্তির আর এক বছরের কম সময় বাকি থাকায় হামজাকে বিক্রি করে উল্লেখযোগ্য অর্থ পাওয়ার জন্য এটিই লেস্টারের শেষ বড় সুযোগ হতে পারে। ‘ট্রান্সফারমার্কেট’-এর হিসাবে তার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় চার মিলিয়ন ইউরো।
হামজার সঙ্গে লেস্টারের সম্পর্ক অবশ্য দীর্ঘদিনের। ক্লাবটির যুব একাডেমি থেকে উঠে এসে ২০১৫ সালে মূল দলে অভিষেক হয় তার। এরপর প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন, লেস্টারের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ক্লাবটির হয়ে এফএ কাপও জিতেছেন।
লেস্টারে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মধ্যে একাধিকবার ধারে অন্য ক্লাবে খেলেছেন হামজা। বার্টন অ্যালবিয়ন, ওয়াটফোর্ড ও শেফিল্ড ইউনাইটেডের জার্সি পরেছেন তিনি। সর্বশেষ ধারের মেয়াদ শেষ করে আবার কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে ফিরেছিলেন।
এখন সাবেক ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডও তাকে আবার দলে নিতে আগ্রহী বলে জানা যাচ্ছে। একই তালিকায় রয়েছে বার্মিংহাম সিটি। তবে দলবদলের শেষ সময়ে ডার্বি কাউন্টির তৎপরতা হামজার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
এখন পর্যন্ত হামজা, লেস্টার সিটি কিংবা আগ্রহী ক্লাবগুলোর কোনো পক্ষই দলবদল নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে আগামী সপ্তাহেই হামজার নতুন ঠিকানা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।