সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ২০১৫ সালে হামলার ঘটনায় করা মামলায় তেজগাঁও থানা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. আবুল কাশেম পাটোয়ারী (৬৬) ওরফে ‘হাতকাটা কাশেম’কে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আবদুল হান্নান তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন।
শুনানিতে আবুল কাশেমের পক্ষে আইনজীবী মনির হোসাইন সুমন রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ সেই আবেদনের বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে চলতি বছরের ১৭ আগস্ট কাওরান বাজার এলাকা থেকে আবুল কাশেম পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে তার অবস্থানের তথ্য পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরদিন ১৮ আগস্ট একই মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ২০১৫ সালের ওই হামলায় আবুল কাশেমের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং তদন্তের স্বার্থে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন—এমন যুক্তিতে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে কাওরান বাজার এলাকায় গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানে বাপেক্স ভবন, পল্লী ভবন, পরিবার পরিকল্পনা অফিস ও কাব্যকস সুপার মার্কেটের সামনে তার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনিভাবে ওই হামলা চালান। এ সময় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
হামলায় চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) নিরাপত্তাকর্মীসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনার তদন্তের ধারাবাহিকতায় গ্রেপ্তার আবুল কাশেম পাটোয়ারীকে এখন আদালতের আদেশ অনুযায়ী পাঁচ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে তদন্ত সংস্থা।