দীর্ঘ অসুস্থতা ও সাড়ে পাঁচ মাসের চিকিৎসার পর জাতীয় সংসদে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। বক্তব্যের শেষ অংশে সহকর্মী সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যে কয়দিন বেঁচে থাকি, যেন দেশ ও জাতির জন্য কাজ করে যেতে পারি।’
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য দেন মির্জা আব্বাস। অধিবেশন কক্ষে হুইলচেয়ারে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমানের পাশে বসে তিনি বক্তব্য রাখেন।
মির্জা আব্বাস জানান, তাঁর চিকিৎসা এখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার কারণে সংসদ অধিবেশনে নিয়মিত অংশ নিতে পারেননি তিনি।
সংসদে তিনি বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, বর্তমান সংসদ যাত্রা শুরু করার পর পরই বিগত ১১ মার্চ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি। দীর্ঘ সময় চিকিৎসার জন্য আমাকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় থাকতে হয়েছে। অসুস্থতার কারণে ইচ্ছা সত্ত্বেও সংসদ অধিবেশনে নিয়মিত হতে পারেনি। আজ চিকিৎসা শেষ বললে ভুল হবে, আমার চিকিৎসা শেষ হয়নি। চিকিৎসার মাঝ পথে প্রথমবারের মতো আমি সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত হতে পেরে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।’
এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে দেশে এবং সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নেন। সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরেন।
সংসদে ফিরে দিনটিকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আজকের দিনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন এবং স্মরণীয়। ২০০৬ সালের পর আজ আমরা মহান জাতীয় সংসদের এই পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের ও গর্বের আর কী হতে পারে।’
অসুস্থতার সময় যাঁরা তাঁর পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। মির্জা আব্বাস বলেন, ‘একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে যারা আমার জন্য দোয়া করেছেন, খোঁজ-খবর নিয়েছেন, পাশে থেকেছেন- তাদের প্রত্যেকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাঁর চিকিৎসার সময় নিয়মিত খোঁজ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। স্পিকার তাঁকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন—এ বিষয়টিও বক্তব্যে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনি নিজেও আমাকে দেখে এসেছেন। যদিও আমি আপনাকে দেখতে পারিনি। আমি পরে জেনেছি। একজন সংসদ সদস্যের প্রতি স্পিকারের এ মানবিক ও আন্তরিক আচরণ আমাকে স্পর্শ করেছে। এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়, এটি আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক, সুন্দর ও উজ্জ্বল উদাহরণ। আপনাদের ভালোবাসা ও আন্তরিকতা আমি কোনোদিন ভুলবো না।’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মির্জা আব্বাস মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদসবৃন্দ ও স্পিকার আমি শ্রদ্ধা-ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছি, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা রাষ্ট্রপতি জিয়ার রহমানকে এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।’
সংসদকে মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আজ মহান সংসদে ফিরে এসে আমার মনে হচ্ছে, সংসদ শুধু বিতর্কের জন্য নয়, এটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’
নিজের নির্বাচনী এলাকা ও দেশের মানুষের জন্য দায়িত্ব পালন করে যেতে সুস্থতা কামনা করেন তিনি। সহকর্মীদের ভালোবাসা, শুভকামনা ও দোয়া কঠিন সময় পার হতে তাঁকে শক্তি জুগিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাস।