কেপ ভার্দের ফুটবলার কাবরাল বিশ্বকাপের সেরা গোলের স্বীকৃতি অর্জন করে ফুটবল ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য এক তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে করা তার দুর্দান্ত গোলটি প্রতিযোগিতার সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে, যেখানে উজবেকিস্তানের এলদর শোমুরোদভ ও হাইতির উইলসন ইসিডরের গোল যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান পেয়েছে।
এই স্বীকৃতির মাধ্যমে কাবরাল যোগ দিলেন বিশ্বকাপে স্মরণীয় গোল করা ফুটবলারদের কাতারে। এর আগে একই সম্মাননা পেয়েছেন আর্জেন্টিনার ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, উরুগুয়ের দিয়েগো ফোরলান, কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেজ, ফ্রান্সের বেঞ্জামিন পাভার্ড এবং ব্রাজিলের রিচার্লিসন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে মায়ামিতে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার প্রাক্কালে কাবরাল বলেছিলেন, তার সবচেয়ে বড় আশা ছিল লিওনেল মেসির পাশে দাঁড়িয়ে কয়েকটি ছবি তোলা। সেই ইচ্ছা পূরণ হলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে তার মাঠের পারফরম্যান্স। গত আসরের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ডান পায়ের কোণাকুণি শটে করা গোলই তাকে এনে দেয় বিশ্বকাপের সেরা গোলের পুরস্কার।
নিজের সেই গোলের মুহূর্ত স্মরণ করে বর্তমানে তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজনস্পোরে খেলা কাবরাল বলেন, “যেই মুহূর্তে আমি প্রতিপক্ষকে (মাক আলিস্তার) কাটিয়ে গেলাম, আমি একটি ফাঁকা জায়গা দেখতে পেলাম আর ভাবলাম, ‘একবার চেষ্টা করেই দেখি।’ আমি দুই পায়েই ভালো শট নিতে পারি। আমি জায়গাটি দেখে নিয়েছিলাম এবং টপ কর্নারের দিকে আমার চোখ ছিল। আমি সেদিকে লক্ষ্য স্থির করি এবং খুব দারুণভাবে বলটিতে শট নিই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যখন ওপরে তাকালাম এবং দেখলাম, বলটি টপ কর্নারের দিকে যাচ্ছে, তখন আমার মনে হলো, ‘আমি এটা কী করলাম!’ আমার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। আমি আমার সতীর্থদের দিকে তাকালাম— সবাই আনন্দে চিৎকার করছিল, বিস্ময়ে মাথায় হাত দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল।”
গোল উদযাপনের অনুভূতি তুলে ধরে কাবরাল বলেন, “আমি কিছু না ভেবেই দৌড়াতে শুরু করি। তারপর বুঝতে পারলাম যে, আমি বিশ্বকাপে একটি দর্শনীয় গোল করেছি। বিশ্বকাপে কেবল একটি গোল করাই সবার স্বপ্ন থাকে, কিন্তু এত বড় মঞ্চে এত বড় দলের বিপক্ষে এভাবে গোল করাটা ছিল অসাধারণ। আমি সত্যিই অনেক খুশি ছিলাম।”