কলকাতার ধর্মতলার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় হোটেলটির মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। এর আগে একই ঘটনায় হোটেলের একটি অংশের লিজগ্রহীতা আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
শনিবার (২২ আগস্ট) বেহালার ডায়মন্ড হারবার রোড এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে বীরেশ্বর মিত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়। অবহেলাজনিত মৃত্যু ও নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাঁচতলা ভবনটিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের সাতজন বাংলাদেশের এবং দুজন ভারতের নাগরিক।
প্রাণহানির পর ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তদন্তে ভবনটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় গুরুতর ঘাটতির তথ্য পাওয়া গেছে। জনবহুল এলাকার পাঁচতলা ভবনটিতে জরুরি নির্গমনের জন্য মাত্র একটি লোহার সিঁড়ি ও একটি লিফট ছিল। তদন্তে ভবনটিতে নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থা ছিল না বলেও তথ্য উঠে এসেছে।
পুলিশের তদন্তে হোটেলটির মালিকানা ও পরিচালন কাঠামোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। ভবনের তিন ও পাঁচতলায় থাকা শিখা ইনকে দুই ভাগে বিভক্ত করে পৃথক ব্যক্তিদের কাছে লিজ দিয়েছিলেন মালিক বীরেশ্বর মিত্র।
এর একটি অংশের লিজ নিয়েছিলেন আবু জাফর। অন্য অংশটি উমেশ ও জিতেন্দ্র সিংয়ের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছিল।
অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে এর আগেই আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অপর দুই লিজগ্রহীতা উমেশ ও জিতেন্দ্র সিংকেও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এখন মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে গ্রেপ্তারের পর ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং হোটেল পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের দায়ের বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।