লোকসভায় শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট বা ছররা গুলি চালানোর ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তার এই দাবির প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির লক্ষ্যে আনা একটি সংশোধনী বিল নিয়ে বুধবার রাতে লোকসভায় আলোচনার সময় রাহুল গান্ধী ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ‘২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর যে আক্রমণ চালানো হয়েছিল, পেলেট বা ছররা গুলি চালানো হয়েছিল, তার নির্দেশ নিশ্চিতভাবেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েছিলেন। আমাদের ছাত্রদের রক্তে ছররা গুলি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দায়ী তিনিই। সে জন্য তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।’
রাহুল আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি বলেন, ঘটনার কথা তাঁর জানা ছিল না, তা হলে বলব তিনি অপদার্থ, অযোগ্য। হয় তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, নয় তিনি অপদার্থ। কারণ যা–ই হোক, তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।’ তিনি দাবি করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রয়েছে। এছাড়া তিনি বলেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িবহর সংসদ চত্বরে দেখেছি। দেখেছি তিনি বসে আছেন। ভয়ে সিঁটিয়ে আছেন। তাই সংসদে এলেও লোকসভায় উপস্থিত হননি।’
রাহুলের বক্তব্যের পর বুধবার রাতেই ‘এক্স’-এ প্রতিক্রিয়া জানান সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস। লোকসভায় দেওয়া রাহুলের ভাষণ ট্যাগ করে তিনি লেখেন, ‘বিষয়টি খুবই গুরুতর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর জবাব দিতেই হবে।’ আরেক পোস্টে তিনি বলেন, ‘২০ জুলাই পুলিশি নৃশংসতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সেদিন যা কিছু ঘটেছে, তার জন্য তিনিই দায়ী। প্রতিটি জীবন মহার্ঘ। মূল্যবান।’
রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশের ফলেই একজন ছাত্র দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশের ফলে একজন ছাত্র দৃষ্টি হারিয়েছেন। সারাটা জীবন তিনি আর দেখতে পারবেন না। এখনই এর জবাব দাও।’
রাহুলের বক্তব্যের সময় সরকারপক্ষের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রশ্ন তোলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছররা গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন—এ দাবির পক্ষে রাহুল প্রমাণ দিতে পারবেন কি না। তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের বক্তব্য অধিকারভঙ্গের শামিল এবং রাহুলের ক্ষমা চাওয়া উচিত। পাশাপাশি ভাষণের বিতর্কিত অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
সংশোধনী বিলের ওপর ভোটাভুটির সময় বিরোধী সদস্যরা ওয়াকআউট করলে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনেও রাহুল গান্ধী একই অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেন। এর পরপরই সিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে সেই দাবির প্রতি সমর্থন জানায়।
এদিকে ছররা গুলি চালানোর ঘটনায় কেন্দ্র বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায় নেবেন না—এমন ইঙ্গিত মিলেছে সিআরপিএফের মহাপরিচালক জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিংয়ের এক বক্তব্যে। বিরোধীরা যখন অমিত শাহর জবাব দাবি করছে, তখন এক অনুষ্ঠানে তিনি বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘পরিস্থিতির মোকাবিলায় যে কাজই করতে হবে, তা আপনারা নির্ভয়ে করবেন। সব দায় আমার। জবাবদিহি আমি করব।’
ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে র্যাফের বিরুদ্ধে। র্যাফ সিআরপিএফের অধীন হলেও দিল্লি পুলিশের নির্দেশনায় কাজ করে। উভয় সংস্থাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন।
এদিকে শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে লিখিত সমঝোতা হওয়ার পরও বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছে সিজেপি। দলটির নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, দমন-পীড়ন বন্ধ না হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামবেন।
সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে বৃহত্তর সামাজিক জোট গঠনের উদ্যোগও নিয়েছে সিজেপি। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি দলের নেতারা উত্তর ভারতের কৃষক নেতা রাকেশ সিং টিকায়েতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর আগে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গিয়ে ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (বিকেইউ) নেতারাও সংহতি প্রকাশ করেছিলেন।
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা গণমাধ্যমকে বলেন, বিকেইউ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং শিক্ষার্থী, কৃষক ও নতুন প্রজন্মের পেশাজীবীদের নিয়ে একটি বৃহত্তর জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আগামী দিনে আরও আলোচনা হবে।