ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের দক্ষিণে অবস্থিত ঐতিহাসিক ফঁতেনব্লো বনে ছড়িয়ে পড়া দুটি বড় দাবানলে ১ হাজার ৩০০ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। আগুনের ঘটনায় অগ্নিসংযোগের সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার প্যারিস থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ফঁতেনব্লো বনে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। একসময় ফরাসি রাজপরিবারের শিকারক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এই বন বর্তমানে ইউনেস্কোর জীবমণ্ডল সংরক্ষণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত এবং এর আশপাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি শান্ত গ্রাম।
নতুন তাপপ্রবাহের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই দাবানলের কারণে উত্তরাঞ্চলে বিরল এক সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ছুটির মৌসুমে আগুনের প্রভাব পড়ে রেল ও সড়ক যোগাযোগেও।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে সোমবার দিনভর আকাশপথ ও স্থলপথে অভিযান চালানো হয়। বিকেল পর্যন্ত প্রথম দাবানলে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে একই দিনে আরেকটি দাবানলের সূত্রপাত হলে আরও প্রায় ১০০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে যায়।
তিনি জানান, ফঁতেনব্লো ও আশপাশের এলাকা থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় এক হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আটক দুই সন্দেহভাজনের একজন ১৮ বছর বয়সী, যার বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের অভিযোগ ছিল না। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তাকে আটক করার সময় তার হাতে কালির দাগ ছিল এবং তার কাছ থেকে একটি লাইটার উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী ক্লেমঁ বোয়ের বলেন, রোববার রাতেই বনের ওপর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পাওয়ার পর তার পরিবার সতর্ক অবস্থানে চলে যায়। তিনি জানান, সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তারা যানবাহন প্রস্তুত রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রেখেছেন।
দাবানলের ব্যাপকতা বিবেচনায় বৃহত্তর প্যারিস অঞ্চলে প্রথমবারের মতো চারটি কানাডেয়ার অগ্নিনির্বাপক বিমান মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি দুটি ড্যাশ বিমান এবং তিনটি পানি নিক্ষেপকারী হেলিকপ্টারও আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়।
উদ্ধার অভিযানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জ্যাঁ-মার্ক সিকার জানান, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আকাশ থেকে মোট ১৮৭ বার পানি নিক্ষেপ করা হয়েছে। রাতেও প্রায় ৬০০ দমকলকর্মী পালাক্রমে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যান।
তার ভাষ্য, কিছু সময় আগুনের তীব্রতা কমলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি এবং আগুন তখনও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছিল।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এই ব্যতিক্রমধর্মী বড় দাবানল মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ জানান, আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রায় এক হাজার মিটারজুড়ে অন্তত ১০টি স্থানে আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় অগ্নিসংযোগের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, গত তিন মাসেরও কম সময়ে এটি ফ্রান্সে তৃতীয় তাপপ্রবাহ। গত সপ্তাহজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।