বাজার থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা পরীক্ষায় নির্ধারিত মান না পাওয়ায় ১০টি পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। পরীক্ষায় ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘিতে মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি; পাম অলিন ও বনস্পতি দিয়ে তৈরি পণ্যটি ঘি হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছিল।
মান পরীক্ষায় অকৃতকার্য পণ্যগুলোর মধ্যে বম্বে সুইটস এন্ড কোং লিমিটেডের পাঁচ ধরনের মসলাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর জন্য দেওয়া বিএসটিআই লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত এসব পণ্য না কিনতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।
বিএসটিআই নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে। বেশ কিছু পণ্য পরীক্ষায় মানসম্মত পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি।
পরীক্ষায় বম্বে সুইটস এন্ড কোং লিমিটেডের কারী পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং-১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং-১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং-২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ নং-এ) অকৃতকার্য হয়েছে। বাংলাদেশ মানের তুলনায় এসব পণ্যে মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা অতিরিক্ত পাওয়া গেছে।
ঘি ও বাটার অয়েলের ক্ষেত্রেও একাধিক প্রতিষ্ঠানের পণ্যে মানগত ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি রয়েছে, যার উৎপাদনের তারিখ ১ জুলাই ২০২৬।
এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, যার উৎপাদনের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৬; মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস এন্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল (ব্যাচ নং-০২২০২৬) পরীক্ষায় নির্ধারিত মান পূরণ করতে পারেনি।
বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় এসব ঘি বিভিন্ন প্যারামিটারে অকৃতকার্য হয়েছে। রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু এবং পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।
বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, ‘জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজার রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত এবং নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর। বিএসটিআই পণ্যের মান সনদ প্রদানের পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রুখতে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে কঠোর নজরদারি চলমান রেখেছে।’
পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকলে হটলাইন ১৬১১৯-এ কল অথবা dg@bsti.gov.bd ঠিকানায় ই-মেইলের মাধ্যমে সংস্থাটিকে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন মহাপরিচালক।