রাজধানীর বাসাবো বিশ্বরোড থেকে নন্দীপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি কাজের মান নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে গিয়ে সড়ক যেন কয়েক দিনের মধ্যেই আবার নষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সড়কটির চলমান সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।
সংস্কারকাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, ‘আমার কথা হচ্ছে, কাজের মান যাতে ভালো হয় এবং কাজের জন্য যে সময়টুকু দেওয়া হয়েছে, সেই সময়ের মধ্যেই যেন ভালোভাবে কাজটি শেষ করা হয়। তাড়াহুড়া করে কাজ করতে গিয়ে যেন দুই দিন পর আবার নষ্ট হয়ে না যায়, এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।’
সড়কটির কাজ শেষ করার সময়সীমা সম্পর্কেও কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান প্রতিমন্ত্রী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা তাকে জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের নির্ধারিত সময় ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ঠিকাদার সময়সীমা আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করেছেন। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই সড়কটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সংস্কারকাজে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে সড়কের নিচে থাকা বিভিন্ন সংস্থার ইউটিলিটি লাইনের বিষয়টিও উঠে আসে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সেখানে ওয়াসার লাইন এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) একাধিক লাইন রয়েছে। এসব লাইনের কারণে কাজের সময় নির্দিষ্ট গভীরতার নিচে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পরিদর্শনের সময় সড়কটির বর্তমান প্রস্থ এবং তা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ফুটপাতসহ সড়কটির মোট প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুট। দুই পাশে ফুটপাতের জন্য প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট করে জায়গা থাকায় যানবাহন চলাচলের মূল সড়ক থাকে প্রায় ২০ ফুট।
সড়ক ও ফুটপাতের জায়গা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এর প্রস্থ ৪০ ফুট পর্যন্ত নেওয়া যায় কি না, সে সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।
পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করার নির্দেশ দেন হাবিবুর রশিদ হাবিব। একই সঙ্গে কাজের গুণগত মান বজায় রেখে সড়কটি দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি, যাতে এলাকাবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ কমে আসে।