মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর তার ছোট ভাই, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম) এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার ভাইকে অন্যায়ভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কাদের সিদ্দিকী। এ সময় লতিফ সিদ্দিকীর হাতে হাতকড়া পরানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো কথা বলার নেই। এটা সরকার বুঝবে। আমাদের হাতে বহুবার হাতকড়া পড়েছে। এতে আমরা খারাপ কিছু মনে করি না। বিয়ের সময় মেয়ের হাতে যেমন চুড়ি পরানো হয়, আমরা হাতকড়াকেও তেমনই মনে করি।’
ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতে ট্রাইব্যুনালে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিষ্পাপ একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে আসামি করায় প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আদালতে প্রত্যেক অভিযুক্তের কথা বলার অধিকার আছে। লতিফ সিদ্দিকীও কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।’
আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘তার বয়স এখন ৮৭ বছর। তিনি যদি এমন অপরাধে ফাঁসির দণ্ড পান, যা তিনি করেননি, তাহলে দুনিয়ায় যে ভুল-ত্রুটি করেছেন, সেগুলো থেকে তিনি মাফ পাবেন। আমরাও তা সাদরে গ্রহণ করব। কারণ শেষ বিচারে আল্লাহ তাআলা তাকে মুক্তি দেবেন।’
শাপলা চত্বরের ঘটনায় তাকে পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, তার ভাইকে পরিকল্পনাকারী বলা যায় না। তার ভাষ্য, তিনি তখন ‘কিচেন কেবিনেটের’ সদস্য ছিলেন না এবং পাটমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বলেন, ‘পাট নিয়ে হত্যা চলে না। ওই সময় বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার কাছে বিতর্কিত ছিলেন। পরে তাকে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়।’
আওয়ামী লীগের শাসনামলের ঘটনার বিচার এখন তার ভাইকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে—এ বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা আইনের মাধ্যমেই লড়াই চালিয়ে যাব।’
বৃহস্পতিবারই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।