বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার পটুয়াখালীর গলাচিপা, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও কুমিল্লার লালমাইয়ে সংঘর্ষে অন্তত ৯০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জের একটি র্যালিতেও দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছেন পটুয়াখালীর গলাচিপায়। সেখানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফার অনুসারী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুনের অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হন।
দলীয় নেতাকর্মী ও পুলিশ সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই পক্ষ আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। সকাল থেকে হাসান মামুনের অনুসারীরা পৌর শহরের সিনেমা হল এলাকায় এবং গোলাম মোস্তফার অনুসারীরা পৌর মঞ্চ এলাকায় অবস্থান নেন।
দুপুর ১২টার দিকে গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের হয়। একই সময়ে হাসান মামুনের পক্ষের উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সত্তার হাওলাদারের নেতৃত্বেও আরেকটি র্যালি সদর রোডের দিকে এগোয়।
বটতলা এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। কালীবাড়ি, হাইস্কুল রোড, বটতলা ও ফিডার রোডসহ পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডেও বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। বেলা ১টার দিকে পৌর সদরের উত্তর বাইপাস এলাকায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, পৃথক কর্মসূচির কারণে পুলিশ দুই পক্ষকে আলাদা সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের দুপুর ২টার মধ্যে কর্মসূচি শেষ করতে বলা হয়।
তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারী এবং উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব মোরছালীনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মুনস্টার কনভেনশন সেন্টার এলাকায় অবস্থান নেন। অন্যদিকে সালাউদ্দিনের অনুসারীরা হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় ছিলেন।
দুপুর ১টার দিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের মিছিল হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে ককটেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক নেতাকর্মীকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাঁদের ধাওয়া দেয়।
এ সময় তিনটি মিনিবাস এবং বিএনপির একটি কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্ত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে থানার ওসি জুয়েল মিয়া দাবি করেছেন, পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা সদরের জমজম টাওয়ার এলাকায় সংঘর্ষটি ঘটে। বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে আনন্দ মিছিল বের করার কর্মসূচি ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলীর অনুসারীদের।
অন্যদিকে বিকেল ৪টায় শ্রীনগর স্টেডিয়ামে কর্মসূচি পালনের কথা ছিল শেখ আবদুল্লাহ ও হাফিজুল ইসলাম খানের অনুসারীদের। সরফত আলীর অনুসারীরা সকাল থেকে জমজম টাওয়ারের সামনে জড়ো হওয়ার সময় মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি শেখ আবদুল্লাহর অনুসারী হাফিজুল ইসলামের কয়েকজন নেতাকর্মী ওই পথ দিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
কুমিল্লার লালমাইয়েও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। বিকেলে উপজেলার বাগমারা রেলগেট ও আশপাশের এলাকায় হওয়া সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
এ ঘটনায় বিএনপির এক পক্ষের এক নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালিতেও দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। শহরের মিশনপাড়া এলাকা থেকে র্যালি বের হয়ে চাষাঢ়ার সমবায় মার্কেটের সামনে পৌঁছালে এ ঘটনা ঘটে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় আলাদা আলাদা পক্ষের কর্মসূচি ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব থেকেই অধিকাংশ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে দলীয় ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য থেকে জানা গেছে।