শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াত নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশের পর প্রাঙ্গণে জামায়াতের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালত চত্বরে বহিরাগতদের উপস্থিতি ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ তোলেন। পরে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনজীবীদের তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।
এর আগে দুপুরে এক দিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলাটির সূত্রপাত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ঘটনা ঘিরে। গত বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে জামায়াতের ৩৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সপরিবারে মদিনা থেকে ঢাকায় পৌঁছায়। ওই সময় বিমানবন্দরে আগমনী যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভেঙে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লাগেজ আসতে দেরি হওয়া এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন ও অশোভন আচরণ করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মামলাটি করা হয়।