জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং গণআন্দোলনের বিভিন্ন স্মারক সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্মিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন। পরদিন ৬ আগস্ট থেকে জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি বলেন, বুধবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরের ফলক উন্মোচন করবেন। পরে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখবেন এবং সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারক পরিদর্শন করবেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরা এবং শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করবেন জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও অন্যান্য পরিবেশনার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরবেন বলে জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক অতিথি, জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রী জানান, জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকবে। বড়দের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।