বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের সম্ভাব্য সব পদক্ষেপের খোঁজ দেবেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ত্রুটিপূর্ণ ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামতের কাজ এগিয়ে চলছে, এবং আশা করা হচ্ছে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে।
গত সপ্তাহে এফএসআরইউটিতে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর দুর্ঘটনার কারণে এটি আমদানিকৃত এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করতে পারছে না। বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদার একাংশ দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পূরণ হয়, বাকি অংশ আমদানিকৃত এলএনজি এফএসআরইউর মাধ্যমে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। ওই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ সীমিত রাখতে হচ্ছে, যার প্রভাব আবাসিক এলাকা, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং যানবাহনেও পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে গত ২৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি চিঠি লিখেন। আজ মঙ্গলবার শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন কুয়ালালামপুরে গিয়ে ওই চিঠি হস্তান্তর করেন। একই দিন বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলমান সংকটের বিবরণ তুলে ধরে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। আনোয়ার ইব্রাহিম তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়ে দ্রুত সমাধানের সব প্রচেষ্টা চালানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সমস্যা সমাধানে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আজ সকালে এফএসআরইউ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আজিজ কাশিমের সঙ্গে আলোচনায় তারা তাদের কর্মপরিকল্পনা ব্যক্ত করেন এবং এই সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সঠিকভাবে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানান। এই আলোচনার পর সরকারপক্ষ কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা এবং আরপিজিসিএল নিরবচ্ছিন্নভাবে এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও প্রতি মুহূর্তে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।