ভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তার প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের মতামত এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিবেচনা করেই পরীক্ষা স্থগিত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর বা ‘ফুল ক্রেডিট’ দেওয়া হবে।
পরীক্ষা পেছানো নিয়ে রুমিন ফারহানার প্রশ্ন
সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, এইচএসসি একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা এক বা দুই দিন পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল এবং এ নিয়ে রাজধানীতে আন্দোলনও হয়েছে। বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের এই দাবিটি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি কেন—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্ন সিলেবাসের বাইরে থেকে এসেছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশের প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছিল।
তিনি জানান, পরীক্ষা নেওয়ার আগে সরকার সারাদেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। এ জন্য ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসও পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকার মতামত পাওয়ার পর বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কুমিল্লায় বিশেষ ব্যবস্থা
শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার দিন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে সৃষ্ট পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টিতে কলেজ মাঠে পানি জমে যাওয়ায় মেয়র, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এছাড়া বৃষ্টিতে অনেক শিক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাদের জন্য বিকল্প পোশাকের ব্যবস্থাও করা হয়। এ কারণে পরীক্ষা এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হলেও পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দিয়ে সেই বিলম্ব সমন্বয় করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে পরীক্ষা বিলম্বিত বা স্থগিত করার ক্ষমতা আগেই স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছিল।
পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর
পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের কাজ প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই আগের সরকারের সময় নিযুক্ত মডারেটররা এসব প্রশ্ন প্রস্তুত করেছিলেন।
তিনি জানান, প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সরকারের অবস্থান
একই অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মার্জিয়া বেগমের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে সাধারণ বা বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বর্তমানে ভেটিং পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে ইউরোপ ও আমেরিকার পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আদলে সেখানে একটি বিশেষায়িত ‘স্কুল অব এগ্রিকালচার’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি এবং অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।