পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় নারায়ণগঞ্জের আদালতে হাজিরা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। হাজিরা শেষে আদালত তার ব্যক্তিগত উপস্থিতি থেকে অব্যাহতির আবেদন মঞ্জুর করায় মামলার বিচারকাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাকে আর সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে হবে না।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে হাজির হন আইভী। তার আইনজীবী আওলাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় আইভী বলেন, “নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময় নারায়ণগঞ্জে হত্যা, অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আর আজ আমিই অপরাধী! যাই হোক, এর বিচার আল্লাহ আছেন, আমার নারায়ণগঞ্জবাসী আছেন, তারা দেখবেন।”
বক্তব্য শেষে তিনি আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে যে গাড়িতে এসেছিলেন, সেটিতেই করে দেওভোগে নিজের বাসার উদ্দেশে রওনা হন।
আইভীর আইনজীবী আওলাদ হোসেন জানান, তাকে গ্রেপ্তারের দিন জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দিকে নেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সদর মডেল থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারিত ছিল। মামলায় জামিনে থাকায় আদালতের কার্যবিধি অনুযায়ী তিনি এদিন হাজিরা দেন।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার কারণে আইভী শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ কারণে তার ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয় এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন। ফলে বিচার কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাকে আর সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে হবে না।
গত ৩ জুন জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর মঙ্গলবার ছিল আইভীর প্রথম আদালতে হাজিরা। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে ৩৯১ দিন বন্দি থাকার পর তিনি মুক্তি পান। মুক্তির ৫৫ দিন পর তিনি আদালতে হাজির হন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জের দেবভোগে নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাবেক এই সিটি মেয়রকে। পরে তার বিরুদ্ধে একে একে ১২টি হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে আইভীর অনুসারী নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে আদালতের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।