সম্পদের হিসাব বিবরণী নির্ধারিত সময়ে দাখিল না করার অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর ওরফে এস কে সুর চৌধুরীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউটর এস. এম. আবুল কালাম (আজাদ)।
দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৫ জুলাই আদালত রায়ের জন্য ২৮ জুলাই দিন নির্ধারণ করেন।
রায় ঘোষণার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এস কে সুরকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাকে এজলাসে তোলা হলে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
তিন বছরের সাজা ঘোষণার পর বিস্ময় প্রকাশ করে এস কে সুর বলেন, “তিন বছরের সাজা! এই মামলায় না এক বছরের সাজা?”
রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে, গত ১৫ জুলাই শুনানিতে দুদকের প্রসিকিউটর এস. এম. আবুল কালাম (আজাদ) আসামির সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের আবেদন জানান। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সরোজ কুমার হাওলাদার খালাস প্রার্থনা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এস কে সুর এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে থাকা সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ জমা দিতে নোটিশ দেয় দুদক।
২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি নিজ স্বাক্ষরে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিলের নির্দেশ এবং সংশ্লিষ্ট ফরম গ্রহণ করেন। তবে নির্দেশ পাওয়ার পর নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তিনি সম্পদের বিবরণী জমা দেননি।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের হিসাব দাখিল না করায় ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী এবং কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন।
এর আগে একই বছরের ২৫ আগস্ট মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন। পরে ৬ নভেম্বর আদালত এস কে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
বিচার চলাকালে আদালতে সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
এরও আগে, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই ডেপুটি গভর্নরকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।