লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের মাটি ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় কৃষকরা। অভিযোগ উঠেছে, এলজিইডি’র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর সহযোগিতায় নিয়ম ভঙ্গ করে নামমাত্র মূল্যে খালের মাটি নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, সেচ খালের মাটি খালের দুই পাড়েই সংরক্ষণ করার কথা, যাতে স্থানীয় কৃষকদের ফসলি জমি সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু সেই নিয়ম অমান্য করে দ্রুততার সঙ্গে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। রামগতির চর আলগি ইউনিয়নের জারিরদোনা খালের প্রায় চার কিলোমিটার পুনঃখনন প্রকল্পে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্র অনুযায়ী, খননকৃত মাটি স্থানীয় সুফলভোগীদের জমি ভরাট এবং দাতব্য কাজে ব্যবহারের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি কৃষকদের। বুধবার (১০ জুন) সকালে ভুক্তভোগী কৃষকরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মালেক হোসেন, জবর মাঝি, খালেক সৈয়ালসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের মাটি মাত্র ২ লাখ ৫ হাজার টাকায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করা হয়েছে, যা একটি অবৈধ ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, তারা সরকারি কোষাগারে সমপরিমাণ টাকা জমা দিয়ে নিজেরা মাটি রাখতে চাইলেও সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জোয়ার ও অতিবৃষ্টিতে তাদের ফসলি জমি খালে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা বলেন, “আমাদের ফসলি জমির ওপর দিয়ে খাল খনন করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী মাটি পাড়ে রাখার কথা। কিন্তু আমাদের না জানিয়ে তা ইটভাটায় বিক্রি করা হয়েছে। এতে বর্ষায় আমাদের জমি ভেঙে যাবে।” অন্যদিকে, নিলামে মাটি ক্রেতা আজাদ উদ্দিন ডলার দাবি করেন, তিনি কোনো অনিয়ম করেননি। প্রকাশ্য নিলামে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবেই মাটি ক্রয় করেছেন বলে জানান তিনি। উপজেলা প্রকৌশলী স্নেহাল রায় বলেন, “নিয়ম মেনেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মাটি ইটভাটায় যাচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।” এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, খালের মাটি ইটভাটায় নেওয়া হলে তারা তা প্রতিরোধ করবেন। সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল কৃষকদের ঘরে পৌঁছানোর পরিবর্তে যদি তা সিন্ডিকেটের হাতে চলে যায়, তবে তা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এখন দেখার বিষয়, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা পায় নাকি প্রভাবশালীদের প্রভাবই প্রাধান্য পায়।
যানজট কমাতে ভৈরব নদের ওপর হবে নতুন সেতু: প্রতিমন্ত্রী অমিত
নিম্ন-মধ্যবিত্তের পকেট কাটার ফন্দি
বিরোধীদের কড়া বার্তা মির্জা ফখরুলের, ‘আমরা উড়ে এসে জুড়ে বসিনি’
দীর্ঘ ছুটিতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
নতুন অর্থনৈতিক রূপকল্পে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন দেখছে সরকার