| ছবি: সংগৃহীত
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশের সুযোগ ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা করছে সরকার। একই সঙ্গে দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে এলিফ্যান্ট রোডে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার দেশে বিনিয়োগের জন্য কাঙ্ক্ষিত ও অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।’ এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বাজারে অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও আগামী মাসে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রীর মতে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ সম্পাদনের উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। সেমিনারে হালাল পণ্যের রপ্তানি নিয়েও কথা বলেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। আর উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজন বিনিয়োগ। এজন্য বিনিয়োগের পথে থাকা জ্বালানি সমস্যারও সমাধান করতে হবে।’ হালাল পণ্যের সার্টিফিকেশন ব্যবস্থাকে আরও সহজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বর্তমানে বিএসটিআই ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন—দুটি প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি সহজ করতে একটি প্রতিষ্ঠান থেকেই হালাল সার্টিফিকেট দেয়া যায় কি না, তা নিয়ে ভাবা যেতে পারে।’ বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বিনিয়োগ পরিবেশ, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার এবং হালাল পণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা—এই তিনটি বিষয়কে রপ্তানি সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।