প্রকাশ : ... | ... | ...

সিঙ্গাইরে ইটভাটায় ডেকে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার হাত-পায়ের রগ কেটে দিল 'বন্ধুরা'


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে পূর্বশত্রুতার জেরে নিজ বন্ধুদের হাতে নির্মম হামলার শিকার হয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা। কৌশলে ইটভাটায় ডেকে নিয়ে কুপিয়ে তার দুই পা ও বাঁ হাতের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মো. বশির (২১) নামের ওই তরুণকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার ডেফলতলী এলাকার একটি ইটভাটায় এই নারকীয় ঘটনা ঘটে। আহত মো. বশির মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের চক গোবিন্দপুর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে। তিনি জেলা ছাত্রলীগের উপকর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে পরিবার ও ছাত্রলীগ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ১০টার দিকে বশির তার এক বন্ধুকে নিয়ে বেতিলা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় অবস্থান করছিলেন। এ সময় আকাশ নামের আরেক বন্ধু কৌশলে তাকে সিঙ্গাইরের ডেফলতলী এলাকার একটি নির্জন ইটভাটায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওঁৎ পেতে ছিল সশস্ত্র হামলাকারীরা। বশির ইটভাটায় পৌঁছানো মাত্রই রামদা, হাতুড়ি ও লোহার রড নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দলবদ্ধ সন্ত্রাসীরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দিলে তিনি মারাত্মক জখম হয়ে মাটিতে পড়ে যান। এরপর হামলাকারীরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই পা ও বাঁ হাতের রগ কেটে দেয়। বশিরকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বশিরের শারীরিক অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় বশিরের বাবা মনির হোসেন বাদী হয়ে সোমবার রাতে সিঙ্গাইর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আহত বশিরের চার বন্ধু—আকাশ মোল্লা (২১), আরিফ হোসেন (২০), তানজিদ হোসেন (২২) ও মো. তুহিনকে (২১) প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই শত্রুতায় জড়াল বন্ধুরা, সে বিষয়ে পরিবার নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেনি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ও আসামিরা একে অপরের পরিচিত এবং বন্ধু। হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।