| ছবি: সংগৃহীত
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ ও একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে রাজু গাজী (২১) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগীর মায়ের দায়ের করা মামলার পর রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন। ওসি জানান, আদালতের নির্দেশে আসামিকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্ত রাজু গাজী সখিপুর থানার চারভাগা শনি কান্দি গ্রামের সুলতান গাজীর ছেলে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তিন মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে নড়িয়ার পূর্ব দিনারা গ্রামের ওই কিশোরীর সঙ্গে রাজুর পরিচয় হয়। পরবর্তীতে ইমু অ্যাপে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ২১ সেপ্টেম্বর (সোমবার) নড়িয়ার ডিঙ্গামানিক গোলারমাঠ এলাকায় দেখা করতে যায় ওই কিশোরী। অভিযোগ রয়েছে, সাক্ষাতের একপর্যায়ে রাজু জোরপূর্বক কিশোরীকে মোটরসাইকেলে তুলে সখিপুরে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে একদিন আটকে রেখে তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়। পরদিন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ঢাকায় নিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রাখা হয় এবং সেখানেও একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে কিশোরী বিয়ের কাবিননামা করার জন্য চাপ দিলে তাকে পুনরায় এলাকায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং বাড়ির কাছের একটি সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত রাজু। এই ঘটনার পর স্থানীয় মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চেয়ে কোনো প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগীর পরিবার। বাধ্য হয়ে তারা অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু বিয়ের দাবি নাকচ করে দেয়। উল্টো মামলা করলে বা বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে কিশোরীকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আইনি সহায়তার জন্য সখিপুর থানায় গেলে পুলিশের পরামর্শে গত ২২ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক মামলা করেন কিশোরীর মা। অন্যদিকে, অভিযুক্ত রাজু গাজীর বাড়িতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা বক্তব্য জানতে চাইলে তার পরিবারের সদস্যরা চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। তারা কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং উল্টো সাংবাদিকদেরও হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আপনারা যা পারেন করেন।’