প্রকাশ : ... | ... | ...

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যা: শর্টকাটের কথা বলে নির্জন স্থানে নেন চালক


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যান তিনি। হত্যাকাণ্ডের আগে বিপদের মুখে বাবার মুঠোফোনে নিজের অবস্থান জানিয়ে বার্তাও পাঠিয়েছিল মেয়েটি। শনিবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কুমিল্লা জেলা পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া। এ সময় লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানসহ জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর রাতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বাস থেকে নেমে বাড়ি ফেরার জন্য অটোরিকশা খুঁজছিল ওই ছাত্রী। তিশা বাস কাউন্টারের সামনে সুমন মিয়ার সঙ্গে ৩০০ টাকা ভাড়ায় যাওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়। অটোরিকশায় ওঠার পর মেয়েটি চালককে ১০০ টাকা দেয়। সেই টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনেন সুমন। পরে শর্টকাট পথে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশাটি কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে লালমাইয়ের দিকে নিয়ে যান তিনি। একপর্যায়ে নির্জন ও অন্ধকার স্থানে গাড়ি থামান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে সুমন ওই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে চিৎকার করে। এ সময় তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন চালক। পরে ধানখেতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার রাতে বিপদের মধ্যে কিশোরীটি বাবার মুঠোফোনে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তখন তার বাবা বার্তাটি দেখতে পাননি। ভোরে বার্তাটি দেখার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশকে দেখতে পান তিনি। গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার একটি ধানখেতের আইলের পাশ থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর তদন্তের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর সুমন ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি রেখে চলে যান। পরে একটি পুকুরে গোসল করে কিশোরীর আইফোন একটি জঙ্গলে ফেলে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান তিনি। ঘটনার পর সেখানে নিজের ভাইয়ের কাছে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। নিজ এলাকায় জমি ও ঘর না থাকায় তিনি লালমাই উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। ভাড়ায় অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি রাতের বেলায় পদুয়ার বাজার ও আশপাশের এলাকায় যাত্রী পরিবহন করতেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় সুমনের এককভাবে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।