| ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ছেলে সেজে এক তরুণীকে বিয়ে করার ঘটনায় সালিস বৈঠকে চাঁদনী আক্তার নামে এক তরুণীকে বেত্রাঘাত, মারধর ও কান ধরে উঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। শনিবার দুপুরে ভিডিওটি প্রতিবেদকের নজরে আসে। কাজি অফিসের কাবিননামা অনুযায়ী, বরিশাল গ্রামের ইব্রাহীমের মেয়ে চাঁদনী আক্তার নাম পরিবর্তন করে রাসেল পরিচয়ে গত ১৫ এপ্রিল পলাশবাড়ী পৌরসভার হিজলগাড়ী গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে লাবনী আক্তারকে বিয়ে করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর তাঁদের দুজনের সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। চাঁদনীর বাবা ইব্রাহীম খলিল প্রথমে বিষয়টি জানতে পারেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। পরে এর সমাধানে শুক্রবার স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে সালিস বৈঠক বসে। বৈঠকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে লাবনীকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনেই মাহফুজ নামের এক ব্যক্তি বাঁশের কঞ্চি দিয়ে চাঁদনীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁকে সমাজের অন্য মেয়েদের মতো চলাফেরা করার নির্দেশও দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ বলেন, গ্রামবাসীর শাসন মেনে নেওয়া গেলেও মধ্যযুগীয় কায়দায় শাস্তি দেওয়া ঠিক হয়নি। দেশে আইন থাকা সত্ত্বেও সবার সামনে দাঁড় করিয়ে প্রায় ২০ মিনিট ধরে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে আঘাত ও মারধর করা অনুচিত। প্রত্যক্ষদর্শী হাসান বলেন, সালিস চলাকালে চাঁদনীকে বেত্রাঘাতের পাশাপাশি কান ধরে উঠবস করানো হয়। প্যান্ট-শার্ট পরার কারণেও উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাঁকে নিষেধ করেন। সালিসে উপস্থিত থাকা পলাশবাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহফুজ আহমেদ বলেন, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে চাঁদনীকে তওবা পড়ানো হয়েছে। তবে বরিশাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না। পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, তিনি ফেসবুকে ঘটনাটি দেখেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি।