প্রকাশ : ... | ... | ...

লোহাগাড়ায় একের পর এক চুরি-ডাকাতি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একের পর এক ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বসতঘরের পাশাপাশি মসজিদেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাতে চারটি দল কাজ করলেও জনবল সংকটের কারণে এই সংখ্যা এখনই বাড়ানো যাচ্ছে না। সর্বশেষ ২০ আগস্ট দিবাগত রাতে উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী হায়দারদের গ্রামের বাড়িতে চোরের দল হানা দেয়। একই বাড়িতে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়েও চুরির ঘটনা ঘটেছিল এবং সে সময় ব্যাপক লুটপাট হয়। আলী হায়দার চট্টগ্রামের ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত। তার বড় ভাই ওমর ফারুক সাংবাদিকতার সুবাদে পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে থাকেন। ছোট ভাই জায়েদ চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। ফলে গ্রামের বাড়িটি বেশির ভাগ সময় ফাঁকা থাকে। আলী হায়দার বলেন, “আমি চট্টগ্রাম শহরে অবস্থানকালে সকালে আমার মেঝ চাচির মাধ্যমে খবর পাই আমাদের বসতঘরে পুনরায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে জানাতে পারছিনা, কারন আমি চট্টগ্রাম শহর থেকে বাড়িতে যাচ্ছি। সব দেখেশুনে তারপর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনুমান করা যাবে।” এলাকায় পুলিশের টহল পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তদের তৎপরতার অভিযোগ তুলে নেশার টাকা সংগ্রহ করতে তারা এসব অপরাধ ঘটাচ্ছে বলে দাবি করেন আলী হায়দার। এর কয়েক দিন আগে ১৬ আগস্ট আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তজু মুন্সীর গ্যারেজ এলাকায় মৃত মাস্টার জসিম উদ্দিনের বাড়িতে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি হয়। প্রায় ১৫ সদস্যের একটি ডাকাত দল পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় ১৮ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এর আগে ১৪ জুলাই আমিরাবাদের রাজমহল ক্লাবসংলগ্ন আমির খাঁন চৌধুরী পাড়ায় রাতের শুরুতে আরেকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেখানে প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ২০ হাজার টাকা লুট হয়। বসতঘরের পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। ১৯ জুলাই চুনতি ইউনিয়নের সুফিনগর মসজিদে-আর-রাহমা, যা স্থানীয়ভাবে বেড়ার মসজিদ নামে পরিচিত, সেখান থেকে প্রায় ৪০০ গজ বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে যায় চোরেরা। ৩ আগস্ট দিবাগত রাতে লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের দরবেশহাট এলাকার শাহী দরবেশিয়া জামে মসজিদের জানালার গ্রিল কেটেও চুরি হয়। চোরেরা আইপিএসের ব্যাটারি এবং দানবাক্স ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে যায়। পরদিন ফজরের নামাজ পড়তে এসে মুসল্লিরা দানবাক্স ভাঙা এবং আইপিএসের ব্যাটারি না দেখে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। একের পর এক ঘটনায় পুলিশের টহল ও অপরাধ দমন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লোহাগাড়ার এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, অপরাধীরা বারবার এমন ঘটনা ঘটাতে পারলে পুলিশের টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতার দৃশ্যমান কার্যকারিতা কোথায়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে দুর্বল প্রমাণে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতিদিন চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও প্রত্যাশিত প্রতিকার মিলছে না। অপরাধের ধারাবাহিকতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। কিছু অপরাধ বিশ্লেষকও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য পেশাদার পুলিশিংয়ের ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যের গাফিলতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাধা তৈরি করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে নিয়োগ পাওয়া সদস্যদের একাংশ কৌশলে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলেও তাদের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণের উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশ অবশ্য নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগের বিপরীতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সক্রিয়ভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “লোহাগাড়ার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। রাত্রিকালীন পুলিশের ৪টি টিম কাজ করে যাচ্ছে। এ সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা দরকার। জনবল সংকটের কারণে আপাতত এখন এ সংখ্যা বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না।”