প্রকাশ : ... | ... | ...

যশোরে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে ভারতের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে যশোর কোতয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের চারটি দল, কোতয়ালি থানা পুলিশের একটি দল এবং চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অংশ নেয়। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেকপোস্ট বসিয়ে ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমুল হক জানান, ডেভিড ইমনের অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিল পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যশোর পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই চক্রের অন্য সদস্যদেরও শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা ডেভিড ইমন একসময় সাধারণ জীবনযাপন করলেও পরে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দেন। এরপর চট্টগ্রামে একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার নাম জড়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তার একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি ধীরে ধীরে সাজ্জাদ গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিতি পান। সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকার একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ জুলাই ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, হুমকির সময় তিনি বলেন, “আমার নাম ডেভিড ইমন, আমার সম্পর্কে পুলিশ কমিশনারকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।” এর দুই দিন পর, ১৩ জুলাই, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি অস্ত্রধারী দল চকবাজারের চন্দনপুরা এক্সেস রোডে অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা অফিসে ঢুকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলায় প্রায় ১৫ লাখ টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়। এছাড়া অফিসের ড্রয়ার থেকে ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানিয়েছিলেন, তার অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিনির্ভর অভিযান চালানো হচ্ছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ডিডিএন কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‍্যাব। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. ইউনুস, ইমরান হোসেন চ্যাং, আকবর হোসেন, মো. সুমন, মো. মনির ওরফে কেহেরমান, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. নয়ন এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, নয়নের বিরুদ্ধে ৮টি, মনিরের বিরুদ্ধে ৭টি, আকবর ও সুমনের বিরুদ্ধে ৬টি করে এবং ইউনুসের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে হত্যা, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, মানবপাচার, চোরাচালান, ডাকাতি ও চুরির অভিযোগ রয়েছে।