প্রকাশ : ... | ... | ...

মতিঝিলে উদ্ধার শক্তিশালী পাইপ বোমা, উল্টোরথ যাত্রা ছিল সম্ভাব্য লক্ষ্য


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া সন্দেহজনক বস্তুটি ছিল ছাতার ভেতরে গোপনে রাখা একটি শক্তিশালী পাইপ বোমা বা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রাকে লক্ষ্য করে নাশকতার উদ্দেশ্যে এটি সেখানে রাখা হয়েছিল। তবে সময়মতো শনাক্ত হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে শাপলা চত্বরের দিকে উল্টোরথ যাত্রা যাওয়ার কথা ছিল। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে খবর দেন যে, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে জেনারেটরের পাশে পড়ে থাকা একটি ভাঁজ করা ছাতার ভেতর থেকে ক্ষীণ আলো জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। খবর পেয়ে এসআই মোহাম্মদ মুক্তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। এ সময় শোভাযাত্রাটি ওই স্থান অতিক্রম করছিল। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এড়াতে পুলিশ উপস্থিত লোকজনকে জানায়, সেখানে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের ঘটনা ঘটেছে এবং সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে স্থানটি পাশ কাটিয়ে যেতে অনুরোধ করে। শোভাযাত্রা নিরাপদে চলে যাওয়ার পর ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে ডিভাইসটি পরীক্ষা করে। পরে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাতাটি খোলার জন্য বোতাম চাপলেই বিস্ফোরণ ঘটার মতোভাবে আইইডিটি প্রস্তুত করা হয়েছিল। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরকটি সেখানে রাখা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে জিআই পাইপের খণ্ডিত অংশ, ব্যাটারি এবং বেয়ারিংয়ের বলসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে উল্টোরথ যাত্রা শুরু হয়ে পলাশীর মোড়সহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অতিক্রম করে স্বামীবাগ ইসকন আশ্রমে গিয়ে শেষ হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া বিপুল মানুষের উপস্থিতিকে লক্ষ্য করেই নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাও কাজ করছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।