| ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে তুরস্ক থেকে দেশে ফিরেছেন। শনিবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানায়। আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, সফরের শুরুতে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের সমাধিসৌধ আনিতকাবিরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সফরকালে তিনি তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী, চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ, স্থলবাহিনীর কমান্ডার, ইস্তাম্বুল নেভাল শিপইয়ার্ডের পরিচালক এবং দেশটির ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি এজেন্সির (এসএসবি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উদ্যোগ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। তুরস্কের স্থলবাহিনীর সদর দপ্তর পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। আইএসপিআর জানায়, বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সরকারি সফরের অংশ হিসেবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তুরস্কের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি উৎপাদন ব্যবস্থা, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবনী উদ্যোগ, প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা নেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়েও মতবিনিময় করেন। আইএসপিআরের মতে, সেনাবাহিনীর প্রধানের এ সফর বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প, সামরিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়নে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।