| ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর জমিলা মেমোরিয়াল হাসপাতালের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসা, চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ওই হাসপাতালে এক প্রবাসী যুবকের মৃত্যুর ঘটনা চার লাখ টাকায় মীমাংসার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিপুলাশার পূর্ব বাজারের রওশনআরা বেগমের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে জ্বরের চিকিৎসার জন্য তাঁর ২৩ বছর বয়সী ছেলে সাইফুল ইসলাম রাজুকে জমিলা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই রাজুর অবস্থার অবনতি হয়। কাঁদতে কাঁদতে রওশনআরা বলেন, ‘ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছেলে বলছিল—মা, আমার হাত ফাডিজায়। এরপর আর কোনো কথা বলতে পারেনি। পরে নাক-মুখ দিয়ে সাদা ফেনা বের হয়।’ তাঁর দাবি, পরে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে রাজুকে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, রাজু আগেই মারা গেছেন। রাজুর বোন রেহেনা আক্তারের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের ভয়ভীতি দেখায়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন। আরেক ভুক্তভোগী রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি তাঁর স্ত্রী নাসরিন আক্তারের সিজারের সময় শিশুর ডান পা ভেঙে যায়। পরে এক্স-রেতে বিষয়টি ধরা পড়ে বলে দাবি তাঁর। রাকিবুল বলেন, শিশুটিকে নিয়ে ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখনো শিশুটির চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন রাকিবুল। পরে তিনি হাসপাতালের পরিচালক ডা. মাইনুল ইসলাম, চিকিৎসক ডা. রাহমা সুলতানা সারিকা ও কর্মকর্তা মো. মোতালেবের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। জমিলা মেমোরিয়ালে চিকিৎসা নিয়ে আরও কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন। কেউ সন্তান হারানোর, কেউ ভুল চিকিৎসায় শারীরিক জটিলতার অভিযোগ তুলেছেন। তবে অনলাইনে করা সব মন্তব্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি প্রবাসী যুবক পারভেজের মৃত্যুর ঘটনায় নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির প্রধান সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. রিয়াজ উদ্দিন ও এনেস্থেশিয়া বিভাগের চিকিৎসক ডা. শফিক। ডা. ইসরাত জাহান বলেন, তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডা. রিয়াজ উদ্দিনের নামে জমিলা হাসপাতালের চিকিৎসকের ‘ভুল চিকিৎসার প্রমাণ পাওয়া যায়নি’—এমন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। ডা. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘তদন্ত চলমান। আমি কোনো গণমাধ্যমকে এমন বক্তব্য দিইনি।’ ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এখন জমিলা মেমোরিয়ালে প্রবাসী যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।