প্রকাশ : ... | ... | ...

প্রাইভেট মাদ্রাসার উন্নয়নে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা, সরকারের কাছে ১৮ দফা দাবি


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: আলহেরা ২৪

দেশের বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষা, নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা এবং সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ প্রাইভেট মাদ্রাসা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ নামে নতুন একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, প্রাইভেট মাদ্রাসাগুলোকে নিরাপদ, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে কাজ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাইভেট মাদ্রাসা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সেমিনারে এসব কথা তুলে ধরা হয়। সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা জাফর আহমদ মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বেতারের ক্বারী হাফেজ মাওলানা আবুল হোসাইন, আন্তর্জাতিক ক্বারী হাফেজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, প্রফেসর মো. শাহজাহানসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও টিভি উপস্থাপক মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ বকশী। বক্তারা বলেন, সংগঠনটির উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। বরং দেশের সব প্রাইভেট মাদ্রাসায় নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রাইভেট মাদ্রাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা, নৈতিক চরিত্র গঠন এবং আদর্শ নাগরিক তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসন, ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ফলে নির্দোষ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে পুরো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি হিসেবে উপস্থাপন না করার আহ্বান জানানো হয়। সেমিনারে দেশের সব প্রাইভেট মাদ্রাসার জন্য ১২ দফা করণীয় ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়ন, সিসিটিভি স্থাপন, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে কঠোর যাচাই-বাছাই, নৈতিক শিক্ষা ও শিশু অধিকারবিষয়ক প্রশিক্ষণ, অভিযোগ গ্রহণের নিরাপদ ব্যবস্থা, আবাসিক শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক তদারকি, অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলা। গণমাধ্যমের প্রতি ৭ দফা আহ্বানে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য-প্রমাণ যাচাই, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য উপস্থাপন, বিচার শেষ হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে তুলে না ধরা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। অভিভাবকদের উদ্দেশে ৬ দফা আহ্বানে সন্তানদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা, যাচাইহীন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার না করা এবং কোনো অনিয়মের তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়। সংগঠনটি সরকারের কাছে ১৮ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাইভেট মাদ্রাসার নিবন্ধন ও স্বীকৃতি সহজ করা, দ্রুত ইআইআইএন নম্বর প্রদান, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ব্যবস্থা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা, নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন, মাদ্রাসার বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ, ব্যক্তির অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠানের ওপর না চাপানো এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা। বক্তাদের মতে, সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম, অভিভাবক, সুশীল সমাজ এবং মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রাইভেট মাদ্রাসাগুলোকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব।