| ছবি: আলহেরা ২৪
দেশের বেসরকারি মাদরাসা, বিশেষ করে কওমি মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে যাচাইবিহীন ও একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত সত্যতা যাচাইয়ের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশের মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী। বক্তারা বলেন, কওমি মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, সমাজসেবা ও দেশপ্রেম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্যও দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মাদরাসা ও মাদরাসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অসম্পূর্ণ ও একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত বা পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, যার ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অতীতে অনেক ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সামাজিকভাবে হয়রানির শিকার হলেও পরবর্তী তদন্তে বহু অভিযোগ ভিত্তিহীন বা অতিরঞ্জিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার সংবাদ অনেক সময় সমান গুরুত্বে প্রচার পায় না। সংগঠনের নেতারা বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত। তবে তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। গণমাধ্যমের প্রতি পাঁচ দফা আহ্বানে তারা তথ্য-প্রমাণ যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, একপাক্ষিক প্রচারণা পরিহার, নির্দোষ প্রমাণিত হলে তা সমান গুরুত্বে প্রকাশ এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশবাসীর প্রতিও আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, কোনো অভিযোগ শুনেই আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যাচাই ছাড়া গুজব বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানান তারা। মাদরাসাগুলোতে নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি স্থাপন, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে সতর্কতা, শিশু সুরক্ষা ও নৈতিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের মাদরাসাগুলোর মর্যাদা, সুনাম ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় মাদরাসাগুলোর পরিচালকদের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ৩০ জুলাই রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে একটি জাতীয় সম্মেলনের আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ, ইসলামী চিন্তাবিদ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও হয়রানির শিকার হওয়া শিক্ষক ও মাদরাসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন বলে জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের শেষে দেশের সাংবাদিক, সম্পাদক, গণমাধ্যমকর্মী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।