প্রকাশ : ... | ... | ...

হবিগঞ্জে হামলার পর পুলিশি নিরাপত্তায় মৌলভীবাজারে এনসিপির নাসীরুদ্দীন ও সারজিস


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে পুলিশি নিরাপত্তায় মৌলভীবাজারে পাঠানো হয়েছে। হামলার পর তারা প্রথমে একটি ব্যাংকে আশ্রয় নেন, পরে পুলিশ তাদের সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে কর্মসূচি শেষ করে ফেরার সময় এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়িবহরে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে দলটি। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এনসিপি নেতাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। পরে বুধবার মৌলভীবাজারে নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের পুলিশি নিরাপত্তায় সেখানে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার মধ্যরাতে এনসিপির মিডিয়া টিমের সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ইতোমধ্যে মৌলভীবাজারে পৌঁছেছেন। সারজিস আলম হবিগঞ্জের হাসপাতালে আহতদের খোঁজ নেওয়ার পর মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এনসিপির দাবি, হামলায় দলের নেতাকর্মী ও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়। “আহতদের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলা এনসিপির সদস্যসচিব মাহবুবুল বারি চৌধুরী মোবিনের হাত ভেঙে গেছে। এ ছাড়া অন্য আরেকটি ছেলের চোখের অবস্থা আশঙ্কাজনক।” জেলা এনসিপির সদস্যসচিব মাহবুবুল বারি চৌধুরী মোবিন বলেন, “ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাসহ নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আহত করেছে। তারা আমার হাত ভেঙে দিয়েছে। আমি চিকিৎসার জন্য সিলেটে যাচ্ছি।” অন্যদিকে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, এনসিপির নেতারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন এবং এ কারণেই সাধারণ ছাত্র-জনতার সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তার দাবি, এতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে আজমিরীগঞ্জে শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এনসিপির নেতারা বিএনপির নেতাদের নাম উল্লেখ করে ‘গুণ্ডাবাহিনী’ বলে বক্তব্য দেন। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে সন্ধ্যায় টাউন হল এলাকায় এনসিপির পদযাত্রা শেষে তাদের ঘিরে বিক্ষোভ হয় এবং সেখান থেকেই হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, “এনসিপির নেতাকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হবে।”