প্রকাশ : ... | ... | ...

গণমাধ্যমের ভূমিকা আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিস্ট’ হতে সহায়তা করেছে: জামায়াত আমির


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিস্ট’ হয়ে ওঠার পেছনে কিছু গণমাধ্যমও ভূমিকা রেখেছে। তাঁর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে মালিক-প্রজার মতো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। শনিবার (৮ আগস্ট) বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক আলোকপ্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণমাধ্যমকে বলা হয় জাতির দর্পণ। তবে অনেক গণমাধ্যমও আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিলো।’ তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ আমলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘জামায়াত ইসলামীর অনেক নেতাও বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। সেটা সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহার স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে।’ বর্তমান সরকারের কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘পুরোনো বন্দোবস্তের বাহিরে আমরা নতুন সরকারের মাঝে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি আগের থেকেও এখন বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। সরকার সংস্কারের থেকে বেশি নিজের দলের মানুষকে কার্ড দেয়ায় ব্যস্ত।’ সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি পূরণ না হওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদের ভিতরে আমাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি মানা হয়নি। তাই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আগামী দিনে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’ সংসদে দাবি আদায় না হওয়ায় বিরোধী দলকে রাজপথে নামতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘জুলাই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি, তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান এখনও শেষ হয়নি।’ অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অনেকেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারেননি।’ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত আলোকপ্রদর্শনী প্রসঙ্গে তিনি জানান, জিয়াউর রহমানকে স্বৈরশাসক হিসেবে বিবেচনা করে প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বৈরশাসক নন, তাই জামায়াতের তিন দিনের প্রদর্শনীর ছবিতে তাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে ১১ দলের সঙ্গে বৈঠক করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।