| ছবি: সংগৃহীত
জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে আন্দোলনের অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া সম্ভব। বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপাড়া গ্রামে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে আবু সাঈদ শাহাদত বরণ করেন। তাঁর দাবি, এই আত্মত্যাগের ঘটনাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে জুলাই বিপ্লবের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সূচনা করে। তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদকে তিনি জুলাই বিপ্লবের "রুহানি নেতৃত্ব", "শহীদদের ইমাম" এবং আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসেনানি হিসেবে মনে করেন। জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এই দিনে তারা প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদ এবং প্রায় ৩০ হাজার আহত মানুষের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তবে শুধু স্মরণ নয়, শহীদদের আদর্শ অনুসারে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সবার দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিচার ও সংস্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর উত্থাপিত দাবিগুলোর প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাদের প্রধান তিনটি দাবি ছিল বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং নির্বাচন। তার দাবি, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বিচার ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের ক্ষেত্রে এখনো জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, মামলার রায় ঘোষণা হলেও সেটি এখনো কার্যকর হয়নি এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। প্রধান প্রসিকিউটরের প্রতি দ্রুত আপিল নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, তার মতে, আবু সাঈদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা। আদালতের রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করার উদ্যোগ নেবে। রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে সরকারের সমালোচনা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংস্কারের বিকল্প নেই। তার দাবি, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার সেই গণরায়ের প্রতি অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারেনি। সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, গণভোটের রায়ের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়ন করা হলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, বৈষম্য ও সন্ত্রাস মোকাবিলা সহজ হবে এবং তাতে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কবর জিয়ারত শেষে নাহিদ ইসলাম শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।