প্রকাশ : ... | ... | ...

‘জেনারেশন গাটার’ মন্তব্যে বিতর্কে কঙ্গনা রনৌত, বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সাম্প্রতিক জেন জি শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে অভিনেত্রী ও বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রনৌতের একাধিক মন্তব্যকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তার ব্যবহৃত ভাষার কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধী নেতারা। কেউ তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, আবার কেউ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিষয়টি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। কঙ্গনার মন্তব্য প্রকাশের পর কংগ্রেস নেতা ভাই জগতাপ প্রশ্ন তোলেন, ‘আন্দোলন চলাকালেন যেভাবে শিক্ষার্থীদের পেটানো হয়েছিল, তা নিয়ে কঙ্গনা রনৌতের মনে কোনও অনুশোচনা আছে কি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মেয়েদের ও সন্তানদের এই আন্দোলনের সময় যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে, পেটানো হয়েছে এবং নির্যাতন করা হয়েছে, নিজে একজন নারী হয়েও কীভাবে তার মনে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা কাজ করে না? এটি সত্যিই আমার কাছে আশ্চর্যজনক মনে হয়।’ এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠানও কঙ্গনার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উচিত তার সংসদ সদস্যের ভাষার প্রতি নজর দেওয়া। কঙ্গনা রানাওয়াত যদি এমন শব্দ ব্যবহার করে থাকেন, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাকে জিজ্ঞেস করুন তো তিনি নিট-এর পূর্ণরূপ জানেন কি না? তিনি তাও জানবেন না। তার পুরো জেনারেশন জি-র কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী মোদির উচিত তার দলের সাংসদরা জেন জি-র জন্য কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন, তা খতিয়ে দেখা।’ সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরসহ ভারতের কয়েকটি শহরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শেষ হয়েছে। আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, স্লোগান, মিম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা ছিল। সেসবের মধ্যে যেমন সৃজনশীলতা ও রসবোধের প্রকাশ দেখা গেছে, তেমনি কোথাও কোথাও অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকারীদের ভাষা ও ইনস্টাগ্রাম পোস্টের সমালোচনা করে কঙ্গনা সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘আমার পুরো জীবনে এক জায়গায় এত কুৎসিত দৃশ্য আমি কখনও দেখিনি। জেন জি আন্দোলনের এই রিলগুলো দেখলে বমি আসে। তাদের কথা বলার ধরণ এবং যে ধরণের ভাষা তারা ব্যবহার করছে... আমার জীবনে কখনও প্রতিটি ফ্রেমে সবকিছু একযোগে এত কর্কশ ও বিশ্রী দেখিনি।’ এরপর তিনি আন্দোলনকারীদের পারিবারিক লালন-পালন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষায়, ‘ইশ! এদের কারা জন্ম দিচ্ছে আর কীভাবে মানুষ করছে?’ আন্দোলনকারীরা নিজেদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে অভিহিত করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কঙ্গনা আরও লেখেন, ‘ভারত হলো বৈচিত্র্যময় সুন্দর মানুষের দেশ, যারা মার্জিত ও নান্দনিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত এবং যাদের শিকড় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যময়। তোমরা নিজেদের তেলাপোকা বলো এবং দেখতে ও আচরণেও তাদের মতোই। এতে কোনও বৈপরীত্য নেই, তোমরা শুধু বিশ্বকে তোমাদের নোংরামি, আবর্জনা আর কুৎসিত রূপ দেখাচ্ছ। এই রিলগুলো দেখে আমি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছি। আমার এখন ডিজিটাল ডিটক্স ও মনের চিকিৎসা দরকার।’ আরেকটি পোস্টে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ‘হিন্দু নারীদের’ উদ্দেশেও কড়া মন্তব্য করেন বিজেপির এই সংসদ সদস্য। তাদের ‘তথাকথিত পাশ্চাত্যমুখী ভারতীয় নারী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত ও কুৎসিত যে তারা গৃহিণী হওয়ারও যোগ্য নয়।’ এরপর তিনি দাবি করেন, ‘তারা গর্বের সঙ্গে নিজেদের মাদক গ্রহণ, মদ খাওয়া এবং নির্লজ্জভাবে মা-বাবার উপার্জনে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা জাহির করে।’ একই ধারাবাহিকতায় পুরো তরুণ প্রজন্মকে ‘জেনারেশন গাটার’ (আবর্জনার প্রজন্ম) বলে উল্লেখ করে কঙ্গনা লেখেন, ‘আমি এদের জেনারেশন গাটার বলি। সমাজ বা ব্যবস্থার জন্য এদের দেওয়ার মতো কিছুই নেই। এরা পড়াশোনায় ভালো নয়। এরা এতটাই কুৎসিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত যে এরা গৃহিণীও হতে পারবে না।’ শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে কঙ্গনা রনৌতের এমন অবস্থান অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকারীদের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টার সমালোচনা করেছিলেন।