প্রকাশ : ... | ... | ...

সফল বাস্তবায়নের ওপরই বাজেটের সাফল্য নির্ভর করছে: অর্থমন্ত্রী


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি ভালো বাজেট প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সেটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দেড় থেকে দুই মাসের পরিশ্রমে প্রণীত বাজেটটি দেশের বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। এখন অর্থ বিভাগের সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করে এর সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রশাসন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা পরিবর্তনের দায়িত্বও সরকারি কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে। গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আমির খসরু কর্মকর্তাদের প্রচলিত ধ্যানধারণার বাইরে গিয়ে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তা ও নতুন কর্মপদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সভাগুলো যেন একমুখী না হয়; বরং কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে মতামত ও নতুন ধারণা তুলে ধরতে পারেন, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি কর্মপরিবেশকে একটি পরিবারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, শুধু সমস্যা বা অভিযোগ নয়, সম্ভাব্য সমাধান ও নতুন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হওয়া উচিত। বিভিন্ন অনুবিভাগ থেকে সময়োপযোগী ও বস্তুনিষ্ঠ মতামত পাওয়া গেলে নীতিনির্ধারণ আরও কার্যকর হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অর্থ বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা পরে সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা-সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা ৫০ ও ৫০০ মিটারের উন্নয়নসংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় স্থানে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি করা হবে। তবে সব উন্নয়ন কার্যক্রম পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেই বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ, রেল যোগাযোগ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উন্নত সড়ক যোগাযোগের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব অবকাঠামোর সমন্বয়ে কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে। তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারকে অন্যতম প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবাখাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে জেলার অবদান আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন।