প্রকাশ : ... | ... | ...

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কাজ শুরু ইসির, সংসদের অধিবেশনের ওপর নির্ভর করবে ভোটের প্রক্রিয়া


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও এখনো ভোটের দিন-তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবনে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিইসি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে ভোটের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনের দিন-তারিখ নির্ধারণের বিধান রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সিইসি বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দিনক্ষণ ঠিক করার কথা বলা আছে। সেজন্য ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। “তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত হলে জানানো হবে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে থাকলে এ নির্বাচন একভাবে হবে, আর না থাকলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।” তিনি আরও জানান, নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সংসদ সচিবালয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা সরবরাহ করবে এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছে। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমদ উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিব গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াও বৈঠকে অংশ নেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে হিসেবে আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে। তফসিলে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ভোটের তারিখ ও স্থান উল্লেখ থাকবে। এসব প্রশাসনিক কার্যক্রম সিইসির কার্যালয়ে সম্পন্ন হলেও ভোটগ্রহণ হবে জাতীয় সংসদের কক্ষে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হন সংসদ সদস্যরা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীর নিজস্ব সম্মতিসূচক স্বাক্ষরও বাধ্যতামূলক। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবার ভোটগ্রহণ হয়েছিল। এরপর প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদের অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজন হলে স্পিকার সাত দিন আগে সংসদের বৈঠক আহ্বান করতে পারেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি জানান, জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে এদিন কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, “আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সাতক্ষীরা-৪ নিয়ে উনারা আমাদের কাছে রেফার করলে তখন দেখা যাবে।” গত ২০ জুলাই রাতে এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও পরে গাজী নজরুল ইসলাম ফেইসবুক পোস্টে ওই নারীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। পরদিন দলটি সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়। এর আগে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সংসদ সদস্যের পদ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি জানান, গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদ বিষয়ে স্পিকার বা জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো রেফারেন্স বা চিঠি এলে আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।