| ছবি: মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসের সৌজন্যে
মালদ্বীপ সরকারের বিশেষ অতিথি হিসেবে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিন দিনের সরকারি সফরে দেশটিতে অবস্থানকালে তিনি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ২৫ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত মালদ্বীপ সফর করছেন ড. খলিলুর রহমান। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার রাজধানী মালেতে রিপাবলিক স্কয়ারে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে পৌঁছালে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের বিভিন্ন ইউনিটের কুচকাওয়াজ ও সামরিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার ৬১তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশটির ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও জাতীয় গৌরব তুলে ধরা হয়। প্যারেড শেষে ড. খলিলুর রহমান একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে মালদ্বীপের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি আতশবাজির প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। সফরের অংশ হিসেবে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর ঘোষিত ‘ফাইভ মিলিয়ন ট্রিজ প্রোগ্রাম’-এ অংশ নেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজধানী মালেতে লোনুজিয়ারাই পার্কে একটি ক্রিস্টিনা গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। এ সময় মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম এবং জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী আলী শরীফ উপস্থিত ছিলেন। গাছ রোপণ অনুষ্ঠানে ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপের সবুজায়ন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুই দেশের নেতৃত্বের এসব উদ্যোগ পরিবেশগত স্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’ এ সময় তিনি স্মরণ করেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে বিপুলসংখ্যক নিমগাছ রোপণ করা হয়েছিল, যা ‘জিয়া ট্রিজ’ নামে পরিচিত। রোববার মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইরুথিশাম আদম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে ধন্যবাদ জানান। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মালদ্বীপকে উপহার হিসেবে ৩০০ কেজি ক্ষীরসাপাত আম দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে মালদ্বীপের ‘ফাইভ মিলিয়ন ট্রিজ প্রোগ্রাম’-এর জন্য ২০ হাজার গাছের চারা উপহার দেওয়া হবে। এ উদ্যোগের প্রশংসা করে ইরুথিশাম আদম বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবসের ৬১তম বার্ষিকীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়োজিত এ সফর দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের প্রতিফলন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা আরও সম্প্রসারণে নতুন গতি সঞ্চার করবে।’ বৈঠকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীই আশা প্রকাশ করেন, এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে ভবিষ্যতমুখী অংশীদারত্ব নতুন মাত্রা পাবে। এ সময় মালদ্বীপের পররাষ্ট্রসচিব ফাতিমাথ ইনায়া, সচিব আমিনাথ শাবিনা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ ফাহমি হাসান, অতিরিক্ত সচিব আমিনাথ আবদুল্লাহ দিদি, যুগ্মসচিব মরিয়ম মিধফা নাঈম এবং রাজনৈতিক পরিচালক মোহাম্মদ আজকান আশরাফসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।