| ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরার পর ইতিহাসের অন্যতম বড় সংবর্ধনা পেয়েছে স্পেন জাতীয় ফুটবল দল। রাজধানী মাদ্রিদে লাখো সমর্থকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রা, যেখানে শহরের প্রধান সড়কজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। সোমবার সন্ধ্যায় ছাদখোলা বাসে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নিয়ে শুরু হয় বিজয় প্যারেড। বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে অধিনায়ক রদ্রি, কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং দলের অন্য সদস্যরা সমর্থকদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ লাখ মানুষ এই উদযাপনে অংশ নেয়। লাল-হলুদ জার্সি পরা সমর্থকদের ঢলে রাজধানীর কেন্দ্রস্থল যেন স্পেনের পতাকার রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। দীর্ঘ শোভাযাত্রা শেষে দলটি পৌঁছায় ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কয়ারে। সেখানে তৈরি করা মঞ্চে একে একে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় বিশ্বকাপজয়ী দলের প্রতিটি সদস্যকে। নিজেদের পছন্দের গানের তালে মঞ্চে ওঠেন ফুটবলাররা। সবার গায়েই ছিল ‘উই আর চ্যাম্পিয়ন্স’ লেখা বিশেষ টি-শার্ট। অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরার পাঠানো ভিডিও বার্তা। তিনি স্পেন দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ঐক্যের শক্তি দিয়ে পুরো বিশ্বের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তারা। একই সুরে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান। মঞ্চে দলীয় ফটোসেশনের পর অধিনায়ক রদ্রি যখন বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন, তখন মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে উপস্থিত জনতা। এরপর শুরু হয় সঙ্গীত, নাচ আর উদযাপনের মধ্য দিয়ে বিজয় উৎসব, যা রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। রোববার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে স্পেন। পরদিন বিশেষ বিমানে মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরেই হাজারো সমর্থক তাদের স্বাগত জানান। ট্রফি হাতে বিমানের দরজায় দাঁড়িয়ে রদ্রি সমর্থকদের অভিবাদন জানালে চারদিকে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিমানবন্দর থেকে দলটি প্রথমে রাজপ্রাসাদে যায়। সেখানে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও রাজপরিবারের সদস্যরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সংবর্ধনা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে মনক্লোয়া প্যালেস থেকে শুরু হয় বিজয় শোভাযাত্রা। বাসের সামনে বড় করে লেখা ছিল—‘কিংস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। উৎসবের মাঝেই অনুভূতির কথা জানান গোল্ডেন বলজয়ী অধিনায়ক রদ্রি। তিনি বলেন, দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের অনুভূতির সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে না। ছোটবেলায় জাভি ও ইনিয়েস্তাদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে দেখেছিলেন, আর এবার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন নিজেরাই। এদিকে ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ স্পেন। পর্তুগাল ও মরক্কোর সঙ্গে যৌথভাবে আসরটি আয়োজন করবে তারা। সেই বিশ্বকাপেও শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তরুণ মিডফিল্ডার পেদ্রি। তার বিশ্বাস, চার বছর পর লামিন ইয়ামাল, গাভি ও পাউ কুবারসির মতো তরুণরা আরও পরিণত হয়ে স্পেনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।