প্রকাশ : ... | ... | ...

ইনফান্তিনোর পদত্যাগ চায় উয়েফা, না হলে অনাস্থা ভোটের হুঁশিয়ারি


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছে। একই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছে, তিনি স্বেচ্ছায় সরে না দাঁড়ালে জরুরি অনাস্থা ভোটের উদ্যোগ নেওয়া হবে। উয়েফা জানিয়েছে, ইনফান্তিনো পদত্যাগ না করলে তাদের ৫৫টি সদস্য দেশই অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেবে। এমন ভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ৪৩ সদস্য দেশের সমর্থনও তাদের রয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর শনিবার সকালে উয়েফা জানায়, ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের ওপর তারা আস্থা হারিয়েছে। ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা ছিল বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের ৩০ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া। ব্যাপক বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় ফিফা। এদিকে ফিফার অভ্যন্তরেও এ পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংস্থার কর্মীদের মধ্যে এ বিদ্রোহকে ‘কিল দ্য মনস্টার’ বা ‘দানব বধ’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে। উয়েফার অবস্থানের প্রতি তাৎক্ষণিক সমর্থন জানিয়েছে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, 'আমরা উয়েফার অবস্থানকে পুরোপুরি সমর্থন করি। বিশ্বব্যাপী ফুটবল যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করতে ফিফার নেতৃত্ব ও শাসনব্যবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ ও কঠোর পর্যালোচনা এখন সময়ের দাবি।' ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করে উয়েফা বলেছে, 'পর্দার আড়ালে থাকা কিছু মানুষের বানানো গোপন ছক আর তড়িঘড়ি তা বাস্তবায়নের এই নোংরা খেলা এভাবে চলতে পারে না। ফুটবলের আদৌ এতে কোনো লাভ আছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যারা এর নেপথ্যে আছে, তাদের খুঁজে বের করে জবাবদিহি করতেই হবে।' সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ও সপ্তাহে সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ও অন্যান্য কনফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করে পুরো ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উয়েফার ভাষ্য, 'ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের ওপর শুধু উয়েফার নয়, ফুটবল পরিবারের আরও অনেক সদস্যই আস্থা হারিয়েছে।' বিবৃতিতে ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি নির্বাচনের সময় ইনফান্তিনোর দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেয় উয়েফা। তারা উল্লেখ করে, সে সময় ইনফান্তিনো বলেছিলেন, "ফিফার টাকা আপনাদেরই টাকা। এটা ফিফা সভাপতির পকেটের টাকা নয়।" উয়েফার দাবি, সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করতে পারেননি। তাদের মতে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ তহবিল থাকা সত্ত্বেও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর উন্নয়নে তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি। উয়েফা আরও জানিয়েছে, বিদ্যমান ফিফা ফরোয়ার্ড কর্মসূচির আওতায় কীভাবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরও কার্যকরভাবে সম্পদ বণ্টন করা যায়, সে বিষয়ে তারা অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে। সংস্থাটির মতে, ফুটবলের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অর্থ ফিফার বিদ্যমান তহবিল থেকেই ব্যয় করা সম্ভব, এজন্য বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির প্রয়োজন নেই। বিবৃতিতে বলা হয়, 'গোটা ফুটবল দুনিয়ার জন্যই এটি এক বিরাট জয়। তবে এখানেই গল্পের শেষ হতে দেওয়া যাবে না। প্রস্তাবটি বাতিল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ফিফার ওপর হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনার আসল কাজ সবে শুরু হয়েছে।' বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা প্রকাশের পর উয়েফা অভিযোগ তোলে, ফিফা ‘ফুটবলের আত্মাকেই বিক্রি করে দেওয়ার’ চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ সর্বসম্মতিক্রমে ৫৫-০ ভোটে বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফভুক্ত দেশগুলোও একই অবস্থান ঘোষণা করে। শুক্রবারের শুরুতে ফিফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অবস্থানে অনড় থাকলেও পরিস্থিতি বদলে যায় এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) পরিকল্পনার বিরোধিতা করে উয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলে। এরপর ফিফার ২১১ সদস্য দেশের অর্ধেকের সমর্থনও আর নিশ্চিত করতে পারেননি ইনফান্তিনো। বিতর্কের মধ্যে শুক্রবার ইনফান্তিনোর সিনিয়র উপদেষ্টা কার্লোস কোর্ডেইরো পদত্যাগ করেন। একই সময়ে ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামুর অভিযোগ করেন, সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে 'প্রতারণা' করা হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও চাপ বাড়তে থাকে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর সঙ্গে ফিফা সভাপতির কোনো আলোচনা হয়নি। ফুটবল-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কৌশলবিদ আশিষ প্রশা উয়েফার পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, 'নিজের পকেট ভারী করতে ফুটবলকে লুটপাট করে খেলাটির বারোটা বাজানোর প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ইনফান্তিনো। একে শুধু থামালেই চলবে না, ভবিষ্যতে যেন এই নোংরা খেলা আর কখনও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আর সেই কাজের শুরুটা হতে হবে ইনফান্তিনোকে সরানোর মধ্য দিয়েই।'