| ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র বক্তব্য দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা এমন জবাব দেবে, যা যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন মনে রাখতে বাধ্য হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলেন তিনি। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির নামে একটি লিখিত বিবৃতি প্রচার করা হয়। সেখানে তিনি বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে লঙ্ঘন করেছে, তা প্রমাণ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের আর কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহাশয়তান’ উল্লেখ করে খামেনি বলেন, ওয়াশিংটন বারবার নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে জুলুম, আধিপত্যবাদ এবং বর্বরতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাত আরও বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে তাদের আরও বড় মূল্য দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানি জনগণ ও ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ এমন জবাব দিতে প্রস্তুত, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে বলে তেহরানের দাবি। তাদের অভিযোগ, সেতু, রেলপথ এবং সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতসহ যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরান। পাশাপাশি ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তেহরান। কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে দেশটির নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মোজতবা খামেনি তাঁর বিবৃতিতে আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ‘আসল চেহারা’ প্রকাশ করেছে। তাঁর মতে, এসব ঘটনার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের প্রতারণামূলক মনোভাব, অবিশ্বস্ততা ও অসৎ উদ্দেশ্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। দেশের জনগণকে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি চলমান সংঘাতের সময় সবাইকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকারও আহ্বান জানান। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে এমন খবরও সামনে এসেছে যে, ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যার উদ্দেশ্য ছিল সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। তবে চুক্তির পর থেকেই উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে এবং কার্যত সেই সমঝোতা অকার্যকর হয়ে পড়েছে।