প্রকাশ : ... | ... | ...

নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের দাবিতে তেল আবিবে বিক্ষোভ


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন চাওয়ার দাবি উঠেছে। এ দাবিতে শনিবার রাজধানী তেল আবিবে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য জরুরি। নির্বাচনের ফলাফলে কোনো পক্ষ এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন না পাওয়ায় দেশটির রাজনীতিতে আরব দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের জোট সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এসব দলের সমর্থন পেলে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের প্রশ্নে রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে। আইজেনকোট এর আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করার সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর পরিবর্তিত আসনসংখ্যা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটাতে বিরোধী দলগুলোর এখন একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রকৃত রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য এটিই হয়তো শেষ সুযোগ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহ শনিবার রামাল্লা থেকে জানান, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে—এমন প্রত্যাশা করছেন অনেক ইসরায়েলি। সাধারণ মানুষের এই আকাঙ্ক্ষাকে আইজেনকোটসহ বিরোধী নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তারা। তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের বিরোধিতা করে একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচি পালন করেন নেতানিয়াহুর সমর্থকেরা। বিক্ষোভে তাদের স্লোগান ছিল, ‘তথাকথিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ইসরায়েলে কোনো সরকার গঠন করা যাবে না।’ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। ফলে কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন তিনটি দল একজোট হয়ে ১৯টি আসনে জয় পেয়েছে। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ‘রাআম’ ও আরব নেতৃত্বাধীন তিন দলের জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছে। ২০২২ সালের শেষ নির্বাচনের তুলনায় এই ভোটের সংখ্যা প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি। আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে আইজেনকোটের জোটের আসনসংখ্যা বেড়ে ৬৭-তে দাঁড়াবে। এতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব হতে পারে। তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এসব দলের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি বা জোট গঠন নিয়ে আপত্তি রয়েছে। এদিকে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি দলগুলোর বিরুদ্ধে কাতার থেকে অর্থ নিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছেন নেতানিয়াহু। কাতার অবশ্য অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করে একে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলে অভিহিত করেছে। আল জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে ‘নির্বাচনি সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। এমনকি তারা বিষয়টিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সঙ্গেও তুলনা করছে। ওই হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। এ ছাড়া শতাধিক ব্যক্তিকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস যোদ্ধারা। নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আলোচনা তাই শুধু দুই প্রধান জোটের আসনসংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ভোট ও রাজনৈতিক সমর্থন এখন ইসরায়েলের ক্ষমতার সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।