প্রকাশ : ... | ... | ...

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পরপরই দেশটির আবহাওয়া সংস্থা সুনামি সতর্কতা জারি করেছে এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর জেরে সর্বোচ্চ এক মিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে। ভূমিকম্পের পর কুমামোতো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা ও মিয়াজাকি প্রিফেকচারের জন্য জরুরি ভূমিকম্প সতর্কতা জারি করেছে জাপান সরকার। এসব প্রিফেকচার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কিউশু দ্বীপে অবস্থিত। তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত ২৫ জুন জাপানের উত্তরাঞ্চলে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি জাপান। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর পশ্চিম প্রান্তে চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে প্রতি বছর শত শত ভূমিকম্প অনুভূত হয় এবং বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশ জাপানেই সংঘটিত হয়। ভূমিকম্পের তীব্রতার পাশাপাশি এর উৎপত্তিস্থল ও গভীরতার ওপর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে। ২০১১ সালে ৯ মাত্রার সমুদ্রগর্ভস্থ ভূমিকম্প এবং পরবর্তী সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হন। ওই দুর্যোগে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ ছাড়া চলতি বছরের ২০ এপ্রিল জাপানের উত্তরাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জন আহত হন। সেই ঘটনার পর ৮ মাত্রা বা তার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হলেও এক সপ্তাহ পর তা প্রত্যাহার করা হয়।